ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০ আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার বিরোধীদলীয় নেতার জন্য হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

অনুরোধেও খায়রুলের কাছ থেকে ঘোড়া উপহার নেননি সেই মনু মিয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • ১৩১২ বার পড়া হয়েছে

এবার কিশোরগঞ্জের গোরখোদক মনু মিয়ার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ঘোড়াটিকে কে বা কারা যেন মেরে ফেলেছে। ৩ হাজার ৫৭টি কবর খোঁড়া মনু মিয়াকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এই খবরটি নজরে এলে সেই মনু মিয়াকে ঘোড়া কিনে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন অভিনেতা খায়রুল বাশার।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। এরপর তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান অভিনেতা। সেখানে দীর্ঘ আলাপ হয় তাদের মধ্যে। খায়রুল বাশার বলেন, “তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়েছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন নিজের ঘোড়া।

সেই ঘোড়াটিকে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলার কথা শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কথার এক পর্যায়ে তাঁকে বলি, ‘একটি ঘোড়া আপনাকে কিনে দিতে চাই।’ কিন্তু তিনি ঘোড়া নিতে চান না। কোনোভাবেই তাকে রাজি করাতে পারিনি; বরং তিনি বারবার এটাই জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে সাতটা ঘোড়া কিনতে পারবেন।”

ঘোড়া মারা যাওয়ার কথা শুনে আহত হননি মনু মিয়া। এতেও অবাক হয়েছেন অভিনেতা। বাসার জানান, ঘোড়া মারা যাওয়া নিয়ে তার মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নেই। তিনি মনে করেন, তার আছে বলেই গেছে। যার আছে, তার যায়। এতে কষ্ট হচ্ছে না।

বাশার বললেন, ‘এই মনু মিয়ার সঙ্গে আলাপ হওয়ায় বুঝতে পারলাম, তিনি কারো অনুদান নিতে চান না। সাধ্যের মধ্যেও অনেক কষ্টে তিনি ঘোড়া কিনেছেন। তিনি কোনো দিন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। মনু মিয়ার জীবনযাপন মুগ্ধ করেছে আমাকে।’

এদিকে মনু মিয়া ও বাশার দুজনেই কিশোরগঞ্জের মানুষ। বাশারের মনে হয়েছে, মনু মিয়া বয়স অনুযায়ী বেশ শক্ত। মানসিকভাবেও দৃঢ়চেতা। এ ধরনের মানুষ সহজেই ভেঙেন পড়েন না। তবে কথার এক পর্যায়ে মনু মিয়া ‘হতাশ’ করেন এই অভিনেতাকে। সেটাও বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেন এই অভিনেতা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

অনুরোধেও খায়রুলের কাছ থেকে ঘোড়া উপহার নেননি সেই মনু মিয়া

আপডেট সময় ০৬:১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

এবার কিশোরগঞ্জের গোরখোদক মনু মিয়ার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ঘোড়াটিকে কে বা কারা যেন মেরে ফেলেছে। ৩ হাজার ৫৭টি কবর খোঁড়া মনু মিয়াকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। এই খবরটি নজরে এলে সেই মনু মিয়াকে ঘোড়া কিনে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন অভিনেতা খায়রুল বাশার।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। এরপর তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান অভিনেতা। সেখানে দীর্ঘ আলাপ হয় তাদের মধ্যে। খায়রুল বাশার বলেন, “তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়েছেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন নিজের ঘোড়া।

সেই ঘোড়াটিকে দুর্বৃত্তরা মেরে ফেলার কথা শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কথার এক পর্যায়ে তাঁকে বলি, ‘একটি ঘোড়া আপনাকে কিনে দিতে চাই।’ কিন্তু তিনি ঘোড়া নিতে চান না। কোনোভাবেই তাকে রাজি করাতে পারিনি; বরং তিনি বারবার এটাই জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে সাতটা ঘোড়া কিনতে পারবেন।”

ঘোড়া মারা যাওয়ার কথা শুনে আহত হননি মনু মিয়া। এতেও অবাক হয়েছেন অভিনেতা। বাসার জানান, ঘোড়া মারা যাওয়া নিয়ে তার মধ্যে কোনো দুঃখবোধ নেই। তিনি মনে করেন, তার আছে বলেই গেছে। যার আছে, তার যায়। এতে কষ্ট হচ্ছে না।

বাশার বললেন, ‘এই মনু মিয়ার সঙ্গে আলাপ হওয়ায় বুঝতে পারলাম, তিনি কারো অনুদান নিতে চান না। সাধ্যের মধ্যেও অনেক কষ্টে তিনি ঘোড়া কিনেছেন। তিনি কোনো দিন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। মনু মিয়ার জীবনযাপন মুগ্ধ করেছে আমাকে।’

এদিকে মনু মিয়া ও বাশার দুজনেই কিশোরগঞ্জের মানুষ। বাশারের মনে হয়েছে, মনু মিয়া বয়স অনুযায়ী বেশ শক্ত। মানসিকভাবেও দৃঢ়চেতা। এ ধরনের মানুষ সহজেই ভেঙেন পড়েন না। তবে কথার এক পর্যায়ে মনু মিয়া ‘হতাশ’ করেন এই অভিনেতাকে। সেটাও বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেন এই অভিনেতা।