ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে মার্কিন নৌবহরকে সতর্কবার্তা দিল ইরান লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

কুকুর কামড়ের পর ভ্যাকসিন নিয়েও ৫ জনের মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-য় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর টিকা নিয়েও পাঁচজনের মৃত্যু এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন নারী ও দুই পুরুষের মৃত্যুতে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মানুষ এখন চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই ঘটনায় আহত আরও অন্তত ২৬ জনের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

গত ২২ এপ্রিল সকালে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি উন্মত্ত কুকুর হঠাৎ মানুষের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কুকুরটি নারী-পুরুষ ও শিশুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর জখম করে। পরে এলাকাবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

 

আহতদের অনেকেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেন। কেউ কেউ বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) সংগ্রহও করেন। ক্ষতস্থান সাবান-পানিতে ধোয়া ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

তবুও ৬ মে প্রথম মারা যান নন্দরানী ও ফুল মিয়া। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছিলেন রতনেশ্বর বর্মণ, আফরুজা বেগম ও সুলতানা বেগম। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, যথাসময়ে কার্যকর চিকিৎসা, পর্যাপ্ত নজরদারি এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়ায় এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, র‍্যাবিস ভাইরাস যদি মাথা বা মস্তিষ্কের কাছাকাছি স্থানে কামড়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তাহলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ও পূর্ণমাত্রার চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার র‍্যাবিসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

 

 

ডা. তানভির রহমান কল্লোল জানান, র‍্যাবিস আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের পর ক্ষতস্থান দীর্ঘ সময় সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত ভ্যাকসিন ও প্রয়োজন হলে আরআইজি নেওয়া জরুরি।

 

এদিকে ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

 

ঘটনার পর আহতদের পর্যবেক্ষণে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর একটি দলও এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

 

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এলাকায় এখনও বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ থাকায় নতুন করে এমন ঘটনার ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী

কুকুর কামড়ের পর ভ্যাকসিন নিয়েও ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:২৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-য় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর টিকা নিয়েও পাঁচজনের মৃত্যু এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন নারী ও দুই পুরুষের মৃত্যুতে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মানুষ এখন চরম শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই ঘটনায় আহত আরও অন্তত ২৬ জনের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

গত ২২ এপ্রিল সকালে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি উন্মত্ত কুকুর হঠাৎ মানুষের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কুকুরটি নারী-পুরুষ ও শিশুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর জখম করে। পরে এলাকাবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

 

আহতদের অনেকেই গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেন। কেউ কেউ বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) সংগ্রহও করেন। ক্ষতস্থান সাবান-পানিতে ধোয়া ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

 

তবুও ৬ মে প্রথম মারা যান নন্দরানী ও ফুল মিয়া। পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছিলেন রতনেশ্বর বর্মণ, আফরুজা বেগম ও সুলতানা বেগম। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, যথাসময়ে কার্যকর চিকিৎসা, পর্যাপ্ত নজরদারি এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়ায় এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে।

 

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, র‍্যাবিস ভাইরাস যদি মাথা বা মস্তিষ্কের কাছাকাছি স্থানে কামড়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তাহলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ও পূর্ণমাত্রার চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার র‍্যাবিসের লক্ষণ প্রকাশ পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

 

 

ডা. তানভির রহমান কল্লোল জানান, র‍্যাবিস আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের পর ক্ষতস্থান দীর্ঘ সময় সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত ভ্যাকসিন ও প্রয়োজন হলে আরআইজি নেওয়া জরুরি।

 

এদিকে ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

 

ঘটনার পর আহতদের পর্যবেক্ষণে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর একটি দলও এলাকায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

 

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এলাকায় এখনও বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ থাকায় নতুন করে এমন ঘটনার ঝুঁকি রয়ে গেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।