ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল নওগাঁ সীমান্তে গভীর রাতে ১৭ জনকে পুশইন, মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ সাতক্ষীরায় আ.লীগ-বিএনপি-জামায়াত’র ত্রিমুখী সংঘর্ষ হাদি হত্যা মামলা: বাদী নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন বোন মাসুমা সাহারায় তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের, বিকল ট্রাকে আটকা ছিলেন যাত্রীরা দ্রুত হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল ৩ কোটি টাকার ‘ডিল’ অভিযোগের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ‘রাজপথ ছাড়ব না’, নোয়াখালী সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতার হুঁশিয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে চট্টগ্রামে যুবলীগের বিক্ষোভ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শনাক্তে পুলিশের অভিযান

হাজতখানায় পরিবার নিয়ে বিয়ে বাড়ির খাবার খেলেন দুই আ.লীগ নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

এবার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নোয়াখালীর আদালতে সংবেদনশীল স্থান হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‌‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়নের) আয়োজন করা হয়েছে। সংবেদনশীল স্থানে অনুষ্ঠিত এ ঘটনার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি দুই নেতাকে মামলার হাজিরার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে এ বেয়াইখানার আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনা জানার জন্য আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাবিকবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে। অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই কক্ষটি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।

বেয়াইখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘চিফ জুড়িসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন মঙ্গলবার রাতে বলেন, ঘটনাটা আমরা শুনেছি। আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া কারো যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রদান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিবেন। তদন্তের পর ইন্টার্নালি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

হাজতখানায় পরিবার নিয়ে বিয়ে বাড়ির খাবার খেলেন দুই আ.লীগ নেতা

আপডেট সময় ১২:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নোয়াখালীর আদালতে সংবেদনশীল স্থান হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‌‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়নের) আয়োজন করা হয়েছে। সংবেদনশীল স্থানে অনুষ্ঠিত এ ঘটনার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি দুই নেতাকে মামলার হাজিরার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে এ বেয়াইখানার আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনা জানার জন্য আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাবিকবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে। অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই কক্ষটি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।

বেয়াইখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘চিফ জুড়িসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন মঙ্গলবার রাতে বলেন, ঘটনাটা আমরা শুনেছি। আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া কারো যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রদান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিবেন। তদন্তের পর ইন্টার্নালি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।