ঢাকা , সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ‘ঘুষ’ চাইলেন সরকারি কর্মকর্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিল ছাড়ের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগকে ঘিরে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়।

 

এক পর্যায়ে তিনি একজন ইউপি সদস্যকে বলেন, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কমিশনের পরিমাণ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’

 

অন্য একটি অংশে এক ব্যক্তি একটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করলে পিআইও ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন।

 

এ সময় শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এরপর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধ-বোধ।’

 

ভিডিওতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অন্য একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও শোনা যায়। শেষাংশে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সূত্র: কালবেলা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ‘ঘুষ’ চাইলেন সরকারি কর্মকর্তা

আপডেট সময় ১০:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বিল ছাড়ের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগকে ঘিরে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়।

 

এক পর্যায়ে তিনি একজন ইউপি সদস্যকে বলেন, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কমিশনের পরিমাণ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’

 

অন্য একটি অংশে এক ব্যক্তি একটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করলে পিআইও ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন।

 

এ সময় শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এরপর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধ-বোধ।’

 

ভিডিওতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অন্য একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও শোনা যায়। শেষাংশে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সূত্র: কালবেলা