ঢাকা , সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিপাকে ট্রাম্প, এবার চীনের কাছে চাইলেন সহায়তা মুরগি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার ইরানে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান সৌদি আরবের তেলের কোনো সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী স্ত্রী ‘ফিলিস্তিনের পক্ষে’ কাজ করায় যুক্তরাষ্ট্রে তোপের মুখে মেয়র মামদানি পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না, সাফ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সৈয়দপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহস থাকলে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠিয়ে দেখাক: আইআরজিসি যুদ্ধের ভালো খবর দেখাও, নয়তো লাইসেন্স বাতিল: ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

সাবেক উপদেষ্টাদের চলতি মাসেই সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশনা, না হলে দিতে হবে ভাড়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন থাকতে দিতে চায় না গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্ধারিত সময়ের পর সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় নিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে মার্চ বা এপ্রিল মাসের জন্য ভাড়া আদায় করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। আবাসন পরিদপ্তর জানায়, ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকতে আগ্রহীএমন কোনো আবেদন সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নীতিমালা নেই। তারা পেনশন সুবিধাও পান না। সে কারণে বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবাই চলতি মাসের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে এক মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া দিতে হবে। জানা গেছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামত ও রংচং করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আবাসন পরিদপ্তরের লক্ষ্য, মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

বর্তমানে মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্ট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আবেদনগুলো নবনিযুক্ত মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, আর আবেদনকারীদের নিজ নিজ পছন্দের বাসভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এদিকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এ ছাড়া মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টাবিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন একজন। মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও রয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রী মর্যাদায় সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় হুইপও থাকবেন একাধিক। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়ার মতো মোট বাড়িঅ্যাপার্টমেন্ট আছে ৩৭টি। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে দেওয়া হবে। 

জানা গেছে, এ তালিকায় খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও রয়েছেন।  এ অবস্থায় সবার আবাসনের ব্যবস্থা আবাসন পরিদপ্তর করতে পারবে কিনাসে প্রসঙ্গে পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সবাই তো আর সরকারি বাসা বরাদ্দ চাইবেন না। কাজেই সেটা সমস্যা হবে না। সূত্র: সমকাল

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপাকে ট্রাম্প, এবার চীনের কাছে চাইলেন সহায়তা

সাবেক উপদেষ্টাদের চলতি মাসেই সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশনা, না হলে দিতে হবে ভাড়া

আপডেট সময় ১০:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন থাকতে দিতে চায় না গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ নির্ধারিত সময়ের পর সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় নিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে মার্চ বা এপ্রিল মাসের জন্য ভাড়া আদায় করা হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের ভাড়া নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। আবাসন পরিদপ্তর জানায়, ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকতে আগ্রহীএমন কোনো আবেদন সাবেক উপদেষ্টা বা অন্যদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নীতিমালা নেই। তারা পেনশন সুবিধাও পান না। সে কারণে বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবাই চলতি মাসের মধ্যেই বাসা ছেড়ে দেবেন। বিশেষ প্রয়োজন হলে এক মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া দিতে হবে। জানা গেছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামত ও রংচং করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আবাসন পরিদপ্তরের লক্ষ্য, মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

বর্তমানে মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্ট কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আবেদনগুলো নবনিযুক্ত মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে, আর আবেদনকারীদের নিজ নিজ পছন্দের বাসভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এদিকে বর্তমান সরকারের মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এ ছাড়া মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টাবিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন একজন। মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও রয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রী মর্যাদায় সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় হুইপও থাকবেন একাধিক। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়ার মতো মোট বাড়িঅ্যাপার্টমেন্ট আছে ৩৭টি। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আপাতত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে দেওয়া হবে। 

জানা গেছে, এ তালিকায় খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরও রয়েছেন।  এ অবস্থায় সবার আবাসনের ব্যবস্থা আবাসন পরিদপ্তর করতে পারবে কিনাসে প্রসঙ্গে পরিদপ্তরের পরিচালক বলেন, সবাই তো আর সরকারি বাসা বরাদ্দ চাইবেন না। কাজেই সেটা সমস্যা হবে না। সূত্র: সমকাল