ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল ৭২-এর সংবিধান মোতাবেক শেখ হাসিনা এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী: ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে, তারাই আজ গণভোটকে অস্বীকার করছে’

এবার ভারত ও চীনকে নরকের সাথে তুলনা করলেন ট্রাম্প!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

 

ভারত ও চীনকে ‘পৃথিবীতে নরকের মতো দেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন ট্রাম্প। যেখানে পৃথিবীতে নরকের মতো দুটি দেশ হিসেবে ভারত ও চীনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) কট্টরপন্থী রেডিও সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ আইনের কঠোর সমালোচনা করা হয়। যেখানে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চীন, ভারত অথবা পৃথিবীর অন্য কোনো নরকের মতো জায়গা থেকে তাদের পুরো পরিবারকে এখানে নিয়ে আসে।

 

 

এছাড়া ভারতীয় এবং চীনা অভিবাসীদের “ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার” হিসেবেও অভিহিত করা হয়। অভিযোগ তোলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার টেক সেক্টরে ভারত ও চীনের নাগরিকদের আধিপত্যের কারণে মার্কিনিরা সুযোগ হারাচ্ছে।

 

 

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। নয়া দিল্লির মার্কিন দূতাবাস মনে করিয়ে দেয় যে, অতীতে ট্রাম্প ভারতকে একটি “অসাধারণ দেশ” এবং মোদিকে তার “ভালো বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের শেয়ার করা সেই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। ভারত এই বক্তব্যকে “অপরিণত, অনভিপ্রেত এবং রুচিহীন” বলে আখ্যা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

 

ভারত সরকার এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই ঘটনাকে ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ধ্রুব কাটোচ বলেন, ”আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি অত্যন্ত অপমানজনক। এটি চরম অবমাননাকর এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। প্রথমত, মার্কিন অর্থনীতিতে ভারতীয় এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেটি কতোটা বিশাল। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বে ভারতীয়রা যে পরিমাণ সম্মান অর্জন করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন একটি মন্তব্য আসা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি নিশ্চিত যে ভারতের কেউই বিষয়টি মুখ বুজে সহ্য করবে না; তাকে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”

 

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরান ভারত ও চীনের পক্ষে অবস্থান নেয়। হায়দরাবাদে ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, ‘চীন ও ভারত সভ্যতার সূতিকাগার। প্রকৃত নরক সেই জায়গা, যেখানে এক যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার

এবার ভারত ও চীনকে নরকের সাথে তুলনা করলেন ট্রাম্প!

আপডেট সময় ০৩:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 

ভারত ও চীনকে ‘পৃথিবীতে নরকের মতো দেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন ট্রাম্প। যেখানে পৃথিবীতে নরকের মতো দুটি দেশ হিসেবে ভারত ও চীনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) কট্টরপন্থী রেডিও সঞ্চালক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট নিজের ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ আইনের কঠোর সমালোচনা করা হয়। যেখানে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রে একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চীন, ভারত অথবা পৃথিবীর অন্য কোনো নরকের মতো জায়গা থেকে তাদের পুরো পরিবারকে এখানে নিয়ে আসে।

 

 

এছাড়া ভারতীয় এবং চীনা অভিবাসীদের “ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার” হিসেবেও অভিহিত করা হয়। অভিযোগ তোলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার টেক সেক্টরে ভারত ও চীনের নাগরিকদের আধিপত্যের কারণে মার্কিনিরা সুযোগ হারাচ্ছে।

 

 

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। নয়া দিল্লির মার্কিন দূতাবাস মনে করিয়ে দেয় যে, অতীতে ট্রাম্প ভারতকে একটি “অসাধারণ দেশ” এবং মোদিকে তার “ভালো বন্ধু” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের শেয়ার করা সেই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। ভারত এই বক্তব্যকে “অপরিণত, অনভিপ্রেত এবং রুচিহীন” বলে আখ্যা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

 

ভারত সরকার এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই ঘটনাকে ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ধ্রুব কাটোচ বলেন, ”আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি অত্যন্ত অপমানজনক। এটি চরম অবমাননাকর এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। প্রথমত, মার্কিন অর্থনীতিতে ভারতীয় এবং ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেটি কতোটা বিশাল। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বে ভারতীয়রা যে পরিমাণ সম্মান অর্জন করেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন একটি মন্তব্য আসা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি নিশ্চিত যে ভারতের কেউই বিষয়টি মুখ বুজে সহ্য করবে না; তাকে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”

 

এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরান ভারত ও চীনের পক্ষে অবস্থান নেয়। হায়দরাবাদে ইরানের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, ‘চীন ও ভারত সভ্যতার সূতিকাগার। প্রকৃত নরক সেই জায়গা, যেখানে এক যুদ্ধাপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন।