মোঃনয়ন ইসলাম মানজার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. সোহান ইসলাম বিজয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য দেওয়ার কারণে তার নিয়োগ আটকে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এতে বাবার কাঁধের সংসারের বোঝা কমানোর স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সোহান ও তার পরিবার।
সোহান ইসলাম বিজয় রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ১১ নম্বর আশাবাড়িয়া এলাকার ভোটার। তার বাবার নাম মো. বশির গাজী। সোহান ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী। তার নিয়োগ পরীক্ষার রোল নম্বর ৬৮১৫০৯৮।
চূড়ান্ত তালিকায় নাম, টেলিটকেও সুপারিশের এসএমএস
জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হয়। পটুয়াখালী জেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৪৪ জনের তালিকায় সোহানের রোল নম্বর রয়েছে। এছাড়া টেলিটক থেকেও তাকে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়ে এসএমএস দেওয়া হয়।
তবে রাঙ্গাবালী উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে সোহানের নিয়োগপত্র আসেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। বিষয়টি জানতে অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেও নিয়োগ আটকে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে পারেননি বলে জানান সোহান।
ভেরিফিকেশন নিয়ে সোহানের অভিযোগ
সোহানের দাবি, তার নামে কোনো মামলা নেই। স্থায়ী ঠিকানা ও শিক্ষাগত সনদে কোনো সমস্যা নেই। তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অসদুপায় অবলম্বন করেননি এবং মেডিকেল পরীক্ষাতেও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তারপরও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে তাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ সোহানের।
এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি। সেখানে সোহান লেখেন, অনেক ইচ্ছা ছিল বাবাকে আর কাজে যেতে দিবো না। ছোট বোনটার পড়ার খরচ দিতে পারবো। সব স্বপ্ন নিমিষে ভেঙে গেল।
নির্দোষ যেন শাস্তি না পায়
ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সোহান তার পোস্টে লেখেন, স্যার আপনাদের হাতে বহু চাকরি প্রার্থীর জীবন-মরণের চাবি। চেষ্টা করিয়েন আমার মতো কোনো নির্দোষ যেন শাস্তি না পায়।
সোহানের অভিযোগ, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তার ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেতিবাচক হওয়ায় নিয়োগ আটকে গেছে। তবে কী কারণে তার ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেতিবাচক হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুনঃতদন্তের দাবি
নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে সোহান ও তার পরিবারের। ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের কারণ পুনরায় তদন্ত করে যোগ্যতা থাকলে তাকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















