ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জুবাইদার সাথে শাড়ি পরে জাইমা রহমান বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে কোনো শপথই নেবেন না ১১ দলীয় জোট অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন আমীর খসরু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা আব্বাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবে না বিএনপির এমপিরা: সালাহউদ্দিন সৌদি আরবের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম রোজার তারিখ প্রকাশ সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু, পাঠ করাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নতুন মন্ত্রিসভায় প্রায় ৪০ সদস্য, শেষ মুহূর্তে আলোচনায় যাদের নাম নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় পা‌কিস্তানের মন্ত্রী

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছে না অন্তর্বর্তী সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

এবার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিনের মতো আছে। এ সময়ে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না এ সরকার। আজ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা অসুস্থ থাকায় বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা পে কমিশন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিভ্রান্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি পে কমিশনের দাবি ছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পে কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তিনি বলেন, ‘পে কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি বাস্তবায়নের জন্য নয়। সেগুলো পরীক্ষা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। পরবর্তী সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে।’ বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পে কমিশনের প্রতিবেদন হুবহু বাস্তবায়ন করা হলে ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হিসাব। তবে বাস্তবে এ ধরনের পে স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন হয় না। সাধারণত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।’

তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত। সে কারণে এই সরকার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে। যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান এবং মাল্টিমডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী সরকার। পে কমিশনের বিষয়টিও একই ধারাবাহিকতার অংশ। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাতে অস্থিরতা বা আন্দোলন তৈরি না হয় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যাতে কোনো অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা মানেই সুপারিশ বাস্তবায়ন নয়।’

জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সরকার এখনো কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এমন কোনো প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জুবাইদার সাথে শাড়ি পরে জাইমা রহমান

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছে না অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেট সময় ০১:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

এবার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিনের মতো আছে। এ সময়ে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না এ সরকার। আজ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা অসুস্থ থাকায় বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা পে কমিশন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিভ্রান্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি পে কমিশনের দাবি ছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পে কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তিনি বলেন, ‘পে কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি বাস্তবায়নের জন্য নয়। সেগুলো পরীক্ষা করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে। পরবর্তী সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে।’ বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পে কমিশনের প্রতিবেদন হুবহু বাস্তবায়ন করা হলে ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হিসাব। তবে বাস্তবে এ ধরনের পে স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন হয় না। সাধারণত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।’

তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত। সে কারণে এই সরকার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে। যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান এবং মাল্টিমডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী সরকার। পে কমিশনের বিষয়টিও একই ধারাবাহিকতার অংশ। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাতে অস্থিরতা বা আন্দোলন তৈরি না হয় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যাতে কোনো অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা মানেই সুপারিশ বাস্তবায়ন নয়।’

জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সরকার এখনো কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এমন কোনো প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি।’