ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘আমাদের দেশ জয়ী হচ্ছে’, শির সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইরান: আরাগচি ‘আসসালামু আলাইকুম’: আরবি বলে ভক্তদের চমকে দিলেন রোনালদো জুনিয়র ‘২ কোটি দেন, সব সই করে দেব’, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর ভিডিও ভাইরাল আমদানি কমায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছাড়াল ২ হাজার টাকা ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল চিকিৎসকের ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ হলেও অটল থাকবে ইরান: আরাঘচি এবার ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বাউফলে চাঁদাবাজি মামলায় দুই সাংবাদিক কারাগারে হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় অন্ত:সত্ত্বা নারীর পেটে লাথি ও স্বামীকে মারধর, গর্ভপাত

ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল চিকিৎসকের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল পরদিন। প্রস্তুতিও ছিল। তবে সেই দায়িত্ব আর পালন করা হলো না। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক জানান, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন আঁচল। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর পরদিন তার ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আঁচল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আঁচলের স্বামী চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালে প্রথমে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. আঁচল রায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড–টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট–ওয়ানও পাস করেছিলেন। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া আঁচল চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই থেমে গেল তার চিকিৎসকজীবন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান আঁচল ঢাকায় বেড়ে ওঠেন। বাবা মনীশ রায় ও মা শ্রীমতি মিতা রায়ের সঙ্গে খিলগাঁও সি ব্লকে থাকতেন তিনি। প্রায় ১৭ মাস আগে চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও তৈরি হয়েছে শোকাবহ পরিবেশ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়েছে। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আমাদের দেশ জয়ী হচ্ছে’, শির সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল চিকিৎসকের

আপডেট সময় ১১:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল পরদিন। প্রস্তুতিও ছিল। তবে সেই দায়িত্ব আর পালন করা হলো না। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক জানান, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন আঁচল। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর পরদিন তার ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আঁচল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আঁচলের স্বামী চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালে প্রথমে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ডা. আঁচল রায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড–টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট–ওয়ানও পাস করেছিলেন। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া আঁচল চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই থেমে গেল তার চিকিৎসকজীবন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান আঁচল ঢাকায় বেড়ে ওঠেন। বাবা মনীশ রায় ও মা শ্রীমতি মিতা রায়ের সঙ্গে খিলগাঁও সি ব্লকে থাকতেন তিনি। প্রায় ১৭ মাস আগে চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও তৈরি হয়েছে শোকাবহ পরিবেশ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়েছে। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।