পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ছোট্ট বাজার নুরাইনপুর। এখানেই জন্ম নিয়েছে এক ভিন্ন রকম বন্ধুত্বের গল্প—একজন ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন আর একটি বকের ছানা। চার মাস আগে বাতাসের ঝাপটায় স্থানীয় একটি বড় গাছ থেকে নিচে পড়ে আহত হয় বকের ছানাটি। তার ওপর আবার গুইসাপের আক্রমণ। ঠিক সে সময় ছুটে গিয়ে প্রাণটিকে রক্ষা করেন হেমায়েত।

ভালোবাসা, যত্ন আর চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয় ছোট্ট সাদা পাখিটি। সুস্থতার পর ফিরে যেতে পারতো নিজের দলে—গাছের বকের বাড়িতে। কিন্তু না, বেছে নিয়েছে মানুষের সান্নিধ্য। দোকানের আঙিনা, চেয়ার কিংবা হেমায়েতের কাঁধ—এগুলোই এখন তার নিরাপদ ঠিকানা।

দিনভর দোকানে খুনসুটিতে মাতিয়ে রাখে হেমায়েতকে। ক্ষুধা লাগলে ভিন্ন ভঙ্গিতে জানিয়ে দেয় আপনজনকে। মাঝে মাঝে ডানা মেলে উড়ে যায় আকাশে, আবার কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে ঠিক তার বন্ধুর কাছেই। রাতে ঘুমায় দোকানেই, হেমায়েতের পাশে।

হেমায়েত উদ্দিনের ভাষায়—
“ওর দুষ্টামি আমাকে সবসময় হাসিখুশি রাখে। কখনো বন্দি করে রাখবো না। নিজের মতোই থাকবে। যতদিন আমার কাছে থাকবে, ততদিন যত্ন করবো।”

বনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—এই বন্ধুত্ব অস্বাভাবিক কিছু নয়। প্রাণী যত্ন আর ভালোবাসা চায়। অবমুক্ত করার চেষ্টা করলেও ছানাটি বারবার ফিরে আসে হেমায়েতের কাছেই। তাই তাকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে বকের ছানাটিকে হেমায়েতের কাছে রেখে দেয়া হয়েছে।

প্রাণীবিদ্যায়ও আছে এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা—মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহু দিনের। কিন্তু যান্ত্রিকতার দুনিয়া এগোতে থাকায় কমছে এই সম্পর্ক। তাই হেমায়েত ও বকের বন্ধুত্ব শিক্ষারও জায়গা তৈরি করে—ভাষা ও প্রজাতি ভিন্ন হলেও ভালোবাসাই বড়, বিশ্বাসই বন্ধন।

প্রাণীপ্রেমীরা বলছেন—
“এ যেন এক সাদা পাখির মায়াময় বন্ধুত্ব—যেখানে আছে কেবল বিশ্বাস আর ভালোবাসা।”

নুরাইনপুর বাজারের এই মানুষ ও পাখির বন্ধুত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
সহজাত হওয়া জরুরি নয়, যত্ন আর মমতাই যথেষ্ট সম্পর্ক গড়তে।