ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি—দিতাম’ অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ সাগরকন্যা কুয়াকাটায় দেখা মিলছে ঝিনুকের ‘সাদা গালিচা’, মুগ্ধ পর্যটকরা এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে: বিরোধী দলের উদ্দেশ্য এ্যানি অবশেষে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি, কার্যকর জুলাই থেকেই জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলামের আহ্বানে জাতি সাড়া দিচ্ছে না: রাশেদ খান জঙ্গলে মিলল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ এক দশক পর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন শি জিনপিং, অভ্যর্থনা জানাবেন ট্রাম্প নিজেই ১০ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম, কারাগারে বিএনপি নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
  • ৫২১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফ এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমদাদুল হক শরীফকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সেই বিএনপি নেতাকে।

গত বুধবার (২৮ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন মুসলিমনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর ছেলে আল মামুন (৩৮) বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফসহ চারজনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আসামীরা হলেন, ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে এমদাদুল হক শরীফ (৩৬), মাজহারুল ইসলাম নয়ন (৪৩), জহিরুল ইসলাম লিটনসহ (৪১) রাসেল আহম্মেদ (৪৩)।

এমদাদুল হক শরীফ পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে আল মামুনদের দোকানঘর ও জমি জোরপূর্বক জবরদখল করতে আসে এমদাদুল হক শরীফ তার সহযোগী মাজহারুল ইসলাম নয়ন, জহিরুল ইসলাম লিটন ও রাসেল আহম্মেদসহ অজ্ঞাত ১০-১৫জনের একটি দল। এসময় দোকানে বসে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলী বাধা দিতে গেলে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফসহ তার লোকজন কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় এমদাদুল হক শরীফ চাপাতি দিয়ে আঘাত করলে ফজর আলীর কপাল ও হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। এরপর মাটিতে পড়ে গেলে শরীফের লোকজন লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে তাকে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধার চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এ ঘটনায় রাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর ছেলে আল মামুন সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফকে গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, বিএনপির বড় নেতা বলে জোরপূর্বক আমাদের দোকানঘর ও জমি দখলতে করতে আসে। যেভাবেই হউক তার জমি লাগবেই। এরআগেও সে অন্যান্য ভাবে লোকজন নিয়ে আমাদের জমি দখল করতে আসেন। বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি তার আগেই যদি সে জমি দখল, চাঁদাবাজি শুরু করে তাহলে ক্ষমতায় গেলে কী করবে? সে যদি জমির ভাগ পেতো থাহলে কথা ছিল। কিন্তু কোন কথা ছাড়াই সে বারবার আমাদের উপর অন্যায় ভাবে জুলুম নির্যাতন করে দোকানের স্যাটার লাগিয়ে তালা মেরে দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হাসপাতালে গেলে তিনি অসুস্থ্য থাকায় কথা বলতে পারেননি।

আল মামুন বলেন, আমরা বাইরে কাজে থাকায় এ সুযোগে এমদাদুল হক শরীফ ও তার লোকজন জোরপূর্বক জমি-জায়গা ও দোকান দখল করতে আসে। আমার বাবা এতে বাঁধা দিতে গেলে তারা দা দিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবাকে জখম করে। বাবার সঙ্গে থাকা ৭ হাজার টাকও তারা নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আমার বাবার উপর হামলাকারীদের সুষ্টু বিচার চাই।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম নয়ন, জহিরুল ইসলাম লিটন ও রাসেল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক শরীফকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি নাকি এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করেছেন। তবে যদি সে এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এ ব্যাপারে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে মারধর করার অভিযোগে তার ছেলে থানয় একটি লিখির অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এমদাদুল হক শরীফকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি—দিতাম’

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম, কারাগারে বিএনপি নেতা

আপডেট সময় ০৫:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফ এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমদাদুল হক শরীফকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় সেই বিএনপি নেতাকে।

গত বুধবার (২৮ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন মুসলিমনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর ছেলে আল মামুন (৩৮) বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফসহ চারজনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আসামীরা হলেন, ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে এমদাদুল হক শরীফ (৩৬), মাজহারুল ইসলাম নয়ন (৪৩), জহিরুল ইসলাম লিটনসহ (৪১) রাসেল আহম্মেদ (৪৩)।

এমদাদুল হক শরীফ পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে আল মামুনদের দোকানঘর ও জমি জোরপূর্বক জবরদখল করতে আসে এমদাদুল হক শরীফ তার সহযোগী মাজহারুল ইসলাম নয়ন, জহিরুল ইসলাম লিটন ও রাসেল আহম্মেদসহ অজ্ঞাত ১০-১৫জনের একটি দল। এসময় দোকানে বসে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলী বাধা দিতে গেলে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফসহ তার লোকজন কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় এমদাদুল হক শরীফ চাপাতি দিয়ে আঘাত করলে ফজর আলীর কপাল ও হাত গুরুতরভাবে জখম হয়। এরপর মাটিতে পড়ে গেলে শরীফের লোকজন লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে তাকে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধার চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এ ঘটনায় রাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর ছেলে আল মামুন সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা এমদাদুল হক শরীফকে গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) আদালতে তোলা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, বিএনপির বড় নেতা বলে জোরপূর্বক আমাদের দোকানঘর ও জমি দখলতে করতে আসে। যেভাবেই হউক তার জমি লাগবেই। এরআগেও সে অন্যান্য ভাবে লোকজন নিয়ে আমাদের জমি দখল করতে আসেন। বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি তার আগেই যদি সে জমি দখল, চাঁদাবাজি শুরু করে তাহলে ক্ষমতায় গেলে কী করবে? সে যদি জমির ভাগ পেতো থাহলে কথা ছিল। কিন্তু কোন কথা ছাড়াই সে বারবার আমাদের উপর অন্যায় ভাবে জুলুম নির্যাতন করে দোকানের স্যাটার লাগিয়ে তালা মেরে দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হাসপাতালে গেলে তিনি অসুস্থ্য থাকায় কথা বলতে পারেননি।

আল মামুন বলেন, আমরা বাইরে কাজে থাকায় এ সুযোগে এমদাদুল হক শরীফ ও তার লোকজন জোরপূর্বক জমি-জায়গা ও দোকান দখল করতে আসে। আমার বাবা এতে বাঁধা দিতে গেলে তারা দা দিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবাকে জখম করে। বাবার সঙ্গে থাকা ৭ হাজার টাকও তারা নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি আমার বাবার উপর হামলাকারীদের সুষ্টু বিচার চাই।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম নয়ন, জহিরুল ইসলাম লিটন ও রাসেল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, পৌর বিএনপির ১ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক শরীফকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি নাকি এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করেছেন। তবে যদি সে এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

এ ব্যাপারে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজর আলীকে মারধর করার অভিযোগে তার ছেলে থানয় একটি লিখির অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে এমদাদুল হক শরীফকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।