ঢাকা , বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনসিপি নেতা মানিকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, অভিযোগকারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও উত্থাপিত অনিয়ম—চট্টগ্রামে জটিল পরিস্থিতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ২০০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও চট্টগ্রাম–১৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জুবাইরুল আলম মানিক এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মুখপাত্র মাহবুবা ইলা খাদিজা।

ইলা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী অঞ্চলে সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে মানিকের অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত হুমকি, অপমান এবং মানসিক চাপের শিকার হন। প্রথমদিকে মানিক হোয়াটসঅ্যাপে অশোভন বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠালেও পরে তাঁকে নিয়ে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং সাইবার বুলিং শুরু হয়।

কর্ণফুলী নতুন উপজেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি বাদ দিয়ে মানিক নিজের ছবি ব্যবহার করলে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিদেশি নাম্বার ব্যবহার করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর কাছে থাকা তথ্য মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতির চাপে গত ১৪ মে রাতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলেও দাবি করেন ইলা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির ছাত্রদের মশাল মিছিলে মানিকের অনুসারীরা অংশ নিতে চাইলে বাধা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে এলাকাভেদে কয়েকটি পক্ষ তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জুবাইরুল আলম মানিক, মো. ফরিদ, মো. কামাল, উজ্জিল সাহেদসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

অভিযোগ বিষয়ে মানিককে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি মন্তব্য দেননি। তবে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, ‘মেয়েটা আগে থেকে পরিচিত। কিন্তু গত এক বছরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে প্রতারণামূলক কাজে জড়িত। আমাকে রাজনৈতিক প্ররোচনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, সিএমপি তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা তাঁর চরিত্র সম্পর্কে অবগত।

অন্যদিকে, ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৫ জুন ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে সহযোগিতা করে সিডিএ’র একটি দেয়াল ভাঙচুরে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সিডিএ কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি রেহাই পান বলে সূত্র জানায়।

এছাড়া একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে আপ বাংলাদেশ পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর লালদিঘি থেকে আটক এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির করেন বলেও জানায় সূত্র। এমনকি ওই নেতা তাঁর আশ্রয়ে ছিলেন বলে একটি ভিডিওও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘনিষ্ঠদের বন্দর, সিডিএ ও আনোয়ারার কয়েকটি কারখানায় ‘কিভাবে আয় করা যায়’—এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাও দিয়ে থাকেন।

একদিকে এনসিপি নেতা মানিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ; অন্যদিকে অভিযোগকারী নারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর তথ্য উঠে আসায় চট্টগ্রামে ঘটনাটি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে জটিল রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা মানিকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, অভিযোগকারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও উত্থাপিত অনিয়ম—চট্টগ্রামে জটিল পরিস্থিতি

আপডেট সময় ০৮:০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও চট্টগ্রাম–১৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জুবাইরুল আলম মানিক এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, যৌন হয়রানি, চাঁদাবাজি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার মুখপাত্র মাহবুবা ইলা খাদিজা।

ইলা অভিযোগ করেন, কর্ণফুলী অঞ্চলে সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে মানিকের অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত হুমকি, অপমান এবং মানসিক চাপের শিকার হন। প্রথমদিকে মানিক হোয়াটসঅ্যাপে অশোভন বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠালেও পরে তাঁকে নিয়ে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং সাইবার বুলিং শুরু হয়।

কর্ণফুলী নতুন উপজেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের ছবি বাদ দিয়ে মানিক নিজের ছবি ব্যবহার করলে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিদেশি নাম্বার ব্যবহার করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর কাছে থাকা তথ্য মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতির চাপে গত ১৪ মে রাতে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলেও দাবি করেন ইলা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির ছাত্রদের মশাল মিছিলে মানিকের অনুসারীরা অংশ নিতে চাইলে বাধা দেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে এলাকাভেদে কয়েকটি পক্ষ তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জুবাইরুল আলম মানিক, মো. ফরিদ, মো. কামাল, উজ্জিল সাহেদসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

অভিযোগ বিষয়ে মানিককে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি মন্তব্য দেননি। তবে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, ‘মেয়েটা আগে থেকে পরিচিত। কিন্তু গত এক বছরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে প্রতারণামূলক কাজে জড়িত। আমাকে রাজনৈতিক প্ররোচনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, সিএমপি তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা তাঁর চরিত্র সম্পর্কে অবগত।

অন্যদিকে, ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে গিয়ে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৫ জুন ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে সহযোগিতা করে সিডিএ’র একটি দেয়াল ভাঙচুরে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সিডিএ কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি রেহাই পান বলে সূত্র জানায়।

এছাড়া একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে আপ বাংলাদেশ পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর লালদিঘি থেকে আটক এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে তদবির করেন বলেও জানায় সূত্র। এমনকি ওই নেতা তাঁর আশ্রয়ে ছিলেন বলে একটি ভিডিওও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘনিষ্ঠদের বন্দর, সিডিএ ও আনোয়ারার কয়েকটি কারখানায় ‘কিভাবে আয় করা যায়’—এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনাও দিয়ে থাকেন।

একদিকে এনসিপি নেতা মানিকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ; অন্যদিকে অভিযোগকারী নারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর তথ্য উঠে আসায় চট্টগ্রামে ঘটনাটি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে জটিল রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক।