দেশে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-আ স ম রব) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আজকে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মূল দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের গঠিত সংস্কার কমিশনের ওপর বর্তায়।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দীর্ঘ এক বছর ধরে ঐকমত্যের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কয়েকটি বিষয়ে পারিনি। মতভেদ থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রকৃত ঐকমত্যের সনদে স্বাক্ষর করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সংস্কারের দল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তখনকার বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো খুলে দিয়েছিলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।”
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা থেকে পার্লামেন্টারি পদ্ধতিতে ফিরে আসেন। আমরা প্রথমে সেটি না মানলেও পরে তিনিই নির্বাচন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন, যার অধীনে চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।”
বিএনপির সংস্কার চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিএনপি সব সময় সংস্কারের পক্ষে। এজন্যই আমরা ১০ দফা, ২৭ দফা ও ৩১ দফা প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করিনি; বরং বিভ্রান্তি এসেছে ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে।”

