বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আজকে দেশে যে সংকট তৈরি করেছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ঐকমত্য কমিশন, আমি বিশ্বাস করি এই সংকট কেটে যাবে। যা হবার হয়ে গেছে; আপনারা দয়া করে ওই সমস্যাগুলো সমাধান করেন, যাতে সবাই একসঙ্গে নির্বাচনের দিকে যেতে পারি। এই সমস্যার সমাধান করে আমরা যেন জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে পারি, সেই পথে এগিয়ে চলুন।”
তিনি বলেন, “আমরা অতীতে আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তবে অবশ্যই আপনারা যে জায়গা তৈরি করেছেন, তা পরিষ্কার করে দেবেন।”
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলনের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
ফখরুল বলেন, “আজ এখানে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আমি কোনোদিন হতাশাবাদী ছিলাম না, রাজনৈতিক জীবনেও নই। কারণ আমি বিশ্বাস করি—ন্যায়ের জয় হবেই, সত্যের জয় হবেই।” এ সময় তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানান এবং জোনায়েদ সাকীর নেতৃত্বে দলের সাফল্য কামনা করেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব প্রমুখ।
বক্তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “যাদের আমরা মাথায় তুলে রেখেছি, এখন তাদের প্রতারক বলতে হচ্ছে—এর চেয়ে দুঃখ আর লজ্জা কী থাকতে পারে!” তারা বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এখন বাংলাদেশ আবার সংকট মুহূর্তে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই আন্দোলনের মতো সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, “মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের পথরেখা সফল করতে হবে। বিচার, সংস্কার, নির্বাচন—এ মুহূর্তে এগুলোই বাংলাদেশের জাতীয় দাবি।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের নির্বাচন পেছানোর মন্তব্যের সমালোচনা করে সাকী বলেন, “এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করবেন না যাতে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতেই হবে। জনগণের ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।”
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা ও শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা জাহান পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

