ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ভাইরাল ছাত্রলীগ ক্যাডারের পিস্তল হাতে ছবি, জনমনে আতঙ্ক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

জুলাই অভ্যুত্থানে হামলাকারী রাজশাহীর এক দুর্ধর্ষ ছাত্রলীগ ক্যাডারের প্রকাশ্যে পিস্তল নাড়াচাড়ার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। গত কয়েক দিন থেকে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপসম্পাদক ইয়াসির আরাফাত আপনের এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।

 

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এ দুর্ধর্ষ এ ক্যাডার এখনও আসেননি। এ ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অস্ত্র উদ্ধারের পাশিাপাশি তাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

 

 

ইয়াসির আরাফাত আপন ছিলেন ২০২২ সালের ১১ মার্চ অনুমোদিত রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ কমিটির নেতা। ওই কমিটির সভাপতি রকি কুমার ঘোষের বাহিনীর সবচেয়ে আস্থাভাজন অস্ত্রধারী ক্যাডার তিনি। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের পরের কমিটির সভাপতি নূর মো. সিয়াম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুম মুবিন সবুজেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন আপন। রাজশাহীতে আপন ইয়াবা ব্যবসার ডিলার হিসেবেও পরিচিত। ব্যবহার করেন প্রাইভেট কার এবং দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল।

 

গত কয়েকদিন থেকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পাঞ্জাবি পরে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে হাতে পিস্তল নিয়ে সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন আপন। একটি রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় ভাইরাল হওয়া ছবিটি রাতের। এসময় আশেপাশে মানুষের উপস্থিতি সেরকম ছিল না।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই বলছেন, গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয়ের আগের মুহূর্তের এ ছবিটি। মহানগরীর আলুপট্রি মোড়ে গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। হামলার সময় এ আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দুইজন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। এদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে পঙ্গু হয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন।

 

 

ওই হামলায় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষের ক্যাডার আপন ছাড়াও তার বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেন।

 

 

ইয়াসির আরাফাত আপনের বাড়ি মহানগরীর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের রাজপাড়া এলাকায়। এলাকাবাসী জানান, আপনের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। তার পাশাপাশি এ বাহিনীর অনেকের কাছেই রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও এ বাহিনীর সদস্যরা এখনও সক্রিয়। সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় এদের অবাধ বিচরণ। দামি ব্রান্ডের কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে শহরজুড়ে দেয় মহড়া।

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতার দাপটে রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন (সড়কপথ) ঠিকাদার কর্মচারী ইউনিয়নের ভোটে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদটি দখল করেন আপন। এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেন তার বাবা আওয়ামী লীগের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত শাহ আলম। দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ঠিকাদার কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ আলম। ছেলে আপনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ ক্যাডার আপনের এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও আপন প্রক্যাশেই রয়েছেন। অজানা এক রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়নি। তবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবিটি প্রকাশের পর তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। আশেপাশেই হয়ত কোথাও আছেন। আপন এবং তার বাহিনীর আতঙ্কে রয়েছি। আমরা এলাকাবাসী এমন একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি এবং তার বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি। পাশাপাশি তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নেব। এরকম ঘটনা ঘটলে অবশ্যই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে ভাইরাল ছাত্রলীগ ক্যাডারের পিস্তল হাতে ছবি, জনমনে আতঙ্ক

আপডেট সময় ১০:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থানে হামলাকারী রাজশাহীর এক দুর্ধর্ষ ছাত্রলীগ ক্যাডারের প্রকাশ্যে পিস্তল নাড়াচাড়ার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। গত কয়েক দিন থেকে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপসম্পাদক ইয়াসির আরাফাত আপনের এ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।

 

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এ দুর্ধর্ষ এ ক্যাডার এখনও আসেননি। এ ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অস্ত্র উদ্ধারের পাশিাপাশি তাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।

 

 

ইয়াসির আরাফাত আপন ছিলেন ২০২২ সালের ১১ মার্চ অনুমোদিত রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ কমিটির নেতা। ওই কমিটির সভাপতি রকি কুমার ঘোষের বাহিনীর সবচেয়ে আস্থাভাজন অস্ত্রধারী ক্যাডার তিনি। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের পরের কমিটির সভাপতি নূর মো. সিয়াম এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুম মুবিন সবুজেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন আপন। রাজশাহীতে আপন ইয়াবা ব্যবসার ডিলার হিসেবেও পরিচিত। ব্যবহার করেন প্রাইভেট কার এবং দামি ব্রান্ডের মোটরসাইকেল।

 

গত কয়েকদিন থেকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পাঞ্জাবি পরে মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে হাতে পিস্তল নিয়ে সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন আপন। একটি রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় ভাইরাল হওয়া ছবিটি রাতের। এসময় আশেপাশে মানুষের উপস্থিতি সেরকম ছিল না।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই বলছেন, গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয়ের আগের মুহূর্তের এ ছবিটি। মহানগরীর আলুপট্রি মোড়ে গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালায় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। হামলার সময় এ আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দুইজন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। এদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে পঙ্গু হয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন।

 

 

ওই হামলায় মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষের ক্যাডার আপন ছাড়াও তার বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করেন।

 

 

ইয়াসির আরাফাত আপনের বাড়ি মহানগরীর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের রাজপাড়া এলাকায়। এলাকাবাসী জানান, আপনের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। তার পাশাপাশি এ বাহিনীর অনেকের কাছেই রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও এ বাহিনীর সদস্যরা এখনও সক্রিয়। সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় এদের অবাধ বিচরণ। দামি ব্রান্ডের কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে শহরজুড়ে দেয় মহড়া।

 

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতার দাপটে রাজশাহী বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন (সড়কপথ) ঠিকাদার কর্মচারী ইউনিয়নের ভোটে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদটি দখল করেন আপন। এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেন তার বাবা আওয়ামী লীগের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত শাহ আলম। দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ঠিকাদার কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহ আলম। ছেলে আপনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

 

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ ক্যাডার আপনের এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও আপন প্রক্যাশেই রয়েছেন। অজানা এক রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও হয়নি। তবে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবিটি প্রকাশের পর তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। আশেপাশেই হয়ত কোথাও আছেন। আপন এবং তার বাহিনীর আতঙ্কে রয়েছি। আমরা এলাকাবাসী এমন একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি এবং তার বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি। পাশাপাশি তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নেব। এরকম ঘটনা ঘটলে অবশ্যই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।