ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামছে ডিএমপি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ!: সমালোচনার জবাবে মাদানী ভারত থেকে তিন ট্রাক বিস্ফোরক আমদানি করলো বাংলাদেশ রাজনীতিতে আর জড়াতে চান না দেব, ফিরছেন অভিনয়ে রাজধানীর সব বাসায় সোলার বসানোর উদ্যোগ সরকারের ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন? ইরান ‘চিরকাল’ হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা

রায় শুনে অশ্রুসিক্ত আবু সাঈদের পরিবার: দ্রুত কার্যকর ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:২৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২২৮ বার পড়া হয়েছে

 

পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রাম। প্রতিদিনের মতোই সকালে মাটির ঘর ও উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। কিন্তু মন তার আজ অস্থির। অন্যদিকে, আবু সাঈদের বাবা ও ভাইরা কবরের পাশে বসে উত্তেজনা আর আশঙ্কার মিশ্র অনুভূতিতে অপেক্ষা করছিলেন রায় ঘোষণার। সকাল থেকেই সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে কবরের পাশে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবর পৌঁছতেই আবু সাঈদের বাবা-মায়ের বুক কিছুটা হালকা হয়। খুশির অশ্রু ঝরে পরিবার, সহযোদ্ধা এবং এলাকাবাসীর চোখে। তবে রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে তারা প্রকাশ করেন গভীর উদ্বেগ।

সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানান আবু সাঈদের বাবা-মা, ভাইয়েরা, সহযোদ্ধা এবং এলাকাবাসী।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন,
“আমার সন্তান তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু শেখ হাসিনার ফাঁসির হুকুমে আমার মন কিছুটা শান্ত। শুনেছি সে ভারত পালিয়েছে—তাকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। আমি সেটা দেখে যেতে চাই। না হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে না।”

শহীদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন,
“শুধু আমার ছেলেকে না—দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে তারা। হাজার হাজার গুম-খুনের দায় আছে। শুধু রায় দিলে হবে না—দ্রুত ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।”

শহীদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন,
“রায় ঘোষণা হতেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। শহীদ ও আহত পরিবারের বাড়িতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারকে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।”

বাদী রমজান আলী বলেন,
“রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছি না। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, কারণ ইতোমধ্যেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে হামলা ও নাশকতা হয়েছে।”

এলাকাবাসী ও সহযোদ্ধারা জানান, রায়ের পর মিষ্টি বিতরণ করা হলেও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা কাটছে না। সহযোদ্ধা মাসুম বিল্লাহ বলেন,
“আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও সক্রিয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও রায়কে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিল হয়। শামসুর রহমান সুমন বলেন,
“রায়ে আমরা খুশি হব তখনই, যখন হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. শওকত আলী বলেন,
“এটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক রায়। অবিলম্বে রায় কার্যকর না হলে দেশ আবারও সংকটে পড়বে।”

সবশেষে, আবু সাঈদের পরিবার জানায়—রায়ে সন্তুষ্ট হলেও তারা এখনও ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে আছেন। আহত ও শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার লক্কড়ঝক্কড় গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামছে ডিএমপি

রায় শুনে অশ্রুসিক্ত আবু সাঈদের পরিবার: দ্রুত কার্যকর ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:২৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রাম। প্রতিদিনের মতোই সকালে মাটির ঘর ও উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। কিন্তু মন তার আজ অস্থির। অন্যদিকে, আবু সাঈদের বাবা ও ভাইরা কবরের পাশে বসে উত্তেজনা আর আশঙ্কার মিশ্র অনুভূতিতে অপেক্ষা করছিলেন রায় ঘোষণার। সকাল থেকেই সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর ভিড় জমে কবরের পাশে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবর পৌঁছতেই আবু সাঈদের বাবা-মায়ের বুক কিছুটা হালকা হয়। খুশির অশ্রু ঝরে পরিবার, সহযোদ্ধা এবং এলাকাবাসীর চোখে। তবে রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে তারা প্রকাশ করেন গভীর উদ্বেগ।

সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানান আবু সাঈদের বাবা-মা, ভাইয়েরা, সহযোদ্ধা এবং এলাকাবাসী।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন,
“আমার সন্তান তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু শেখ হাসিনার ফাঁসির হুকুমে আমার মন কিছুটা শান্ত। শুনেছি সে ভারত পালিয়েছে—তাকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। আমি সেটা দেখে যেতে চাই। না হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে না।”

শহীদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন,
“শুধু আমার ছেলেকে না—দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে তারা। হাজার হাজার গুম-খুনের দায় আছে। শুধু রায় দিলে হবে না—দ্রুত ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।”

শহীদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন,
“রায় ঘোষণা হতেই আওয়ামী লীগের একটি অংশ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। শহীদ ও আহত পরিবারের বাড়িতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারকে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।”

বাদী রমজান আলী বলেন,
“রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছি না। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, কারণ ইতোমধ্যেই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে হামলা ও নাশকতা হয়েছে।”

এলাকাবাসী ও সহযোদ্ধারা জানান, রায়ের পর মিষ্টি বিতরণ করা হলেও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা কাটছে না। সহযোদ্ধা মাসুম বিল্লাহ বলেন,
“আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও সক্রিয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও রায়কে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিল হয়। শামসুর রহমান সুমন বলেন,
“রায়ে আমরা খুশি হব তখনই, যখন হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. শওকত আলী বলেন,
“এটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক রায়। অবিলম্বে রায় কার্যকর না হলে দেশ আবারও সংকটে পড়বে।”

সবশেষে, আবু সাঈদের পরিবার জানায়—রায়ে সন্তুষ্ট হলেও তারা এখনও ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে আছেন। আহত ও শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।