ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন? ইরান ‘চিরকাল’ হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ নজিরবিহীন পরিস্থিতি, একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গে? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় থালাপতির শপথ আটকে গেল! যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান ‘আমি পদত্যাগ করবো না’, ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মরদেহ, সব গয়না নিয়ে পালালেন স্বামী

পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একেপরাজয়বলে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ, বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। কিন্তু তারপরে কী হবে? ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বিজেপি নেতারা ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তার অবস্থানে অনড় থাকলে শুক্রবার (৮ মে) মাঝের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমীভাবে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবেএমনটাই মত প্রবীণ আইনজ্ঞদের।

প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা অনেকেই গোটা ভারতে এর কোনো পূর্ব নজিরের কথা সাম্প্রতিক অতীতে মনে করতে পারছেন না। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যের প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। 

কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে গেল বুধবারই। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পরে এম কে স্ট্যালিন এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছে। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটি হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালেরসদিচ্ছায়একটা রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন মেনে বৃহস্পতিবার, ৭ মে রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এর পরে এক মিনিটও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে তখন থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারিভাবে কবে শপথ নিতে চায়, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ হবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি। 

বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে। ওই দিন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। সেটা হলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।সূত্র: এই সময়

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন

পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন?

আপডেট সময় ১১:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একেপরাজয়বলে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ, বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। কিন্তু তারপরে কী হবে? ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বিজেপি নেতারা ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তার অবস্থানে অনড় থাকলে শুক্রবার (৮ মে) মাঝের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমীভাবে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবেএমনটাই মত প্রবীণ আইনজ্ঞদের।

প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা অনেকেই গোটা ভারতে এর কোনো পূর্ব নজিরের কথা সাম্প্রতিক অতীতে মনে করতে পারছেন না। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যের প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। 

কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে গেল বুধবারই। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পরে এম কে স্ট্যালিন এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছে। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেটি হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালেরসদিচ্ছায়একটা রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন মেনে বৃহস্পতিবার, ৭ মে রাত ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এর পরে এক মিনিটও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে তখন থেকে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারিভাবে কবে শপথ নিতে চায়, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ হবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি। 

বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে। ওই দিন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। সেটা হলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।সূত্র: এই সময়