বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের সব মামলা তুলে নেওয়া হবে’—এ ধরনের মন্তব্যের পর সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন তিনি। এবার তার মেয়ে শামারুহ মির্জা সোশ্যাল মিডিয়ায় এক হৃদয়স্পর্শী ও প্রতিবাদী পোস্ট দিয়ে সমালোচনাকারীদের কড়া জবাব দিয়েছেন।
শামারুহ মির্জা পোস্টে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ, চরিত্রহনন এবং মানসিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি লেখেন—‘তিনি কি অসৎ? না। তিনি কি ঘুষখোর? না। তিনি কি জনবিরোধী? না। তিনি কি জুলাইবিরোধী?…’—যার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, মির্জা ফখরুল কখনও কোনো অসৎ কাজ বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হননি।
শামারুহ আরও উল্লেখ করেন, তার বাবা সব সময় ১৯৭১-এর চেতনাকে ধারণ করে দেশ ও জাতির জন্য সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন। গত ৪৫ বছর ধরে তিনি দেশের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পক্ষে লড়াই করে চলেছেন, অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং বারবার কারাবরণ করেছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ক্ষমতাসীন দলের আক্রমণ, বাসভবনে বোমা হামলা এবং চরম অপমানের শিকার হওয়া সত্ত্বেও, তার বাবা দলের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার কোনো দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি।
শামারুহ ফখরুলকন্যা তার বাবার নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও ও দেশপ্রেমের কাজের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের সময় বরেন্দ্র প্রকল্প ও বিমান বিক্রির মতো কাজের মাধ্যমে তার বাবার কাজ সবসময় জনস্বার্থমুখী এবং স্বচ্ছ ছিল।
এই আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে শামারুহ কেবল বাবার প্রতি চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং একজন জাতীয় নেতার রাজনৈতিক সততা, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগের ইতিহাসও জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এই পোস্ট দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে প্রশ্ন উঠেছে—সৎ ও ত্যাগী নেতাদের প্রতি কেন এ ধরনের মানসিক নিপীড়ন চলছেই?

ডেস্ক রিপোর্ট 

























