ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা রয়েছে, নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল’ পিলারের কাছে মাটি অপসারণে পদ্মা সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী পবিত্র কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পীর গৌরবময় অবদান নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের তৎপরতা নজরদারিতে: ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের!, অস্বস্তি ভারতের? সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম: সেনাপ্রধান ইউনূস-নুরজাহানের শাস্তির দাবিতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ রাজধানীতে আবারও কক’টেল বি’স্ফো’’রণ

শেখ মুজিব মানুষকে উত্তেজিত করে ‘পাইপ’ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গেছিলেন: আলাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪০৩ বার পড়া হয়েছে

গত ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে উত্তেজিত করে চুরুটে পাইপ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সে সময়ে ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান আলোচনা করতে গিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, শেখ মুজিব বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে উত্তেজিত করেছেন। এরপর চুরুটে পাইপ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গেলেন। নিজের পরিবারকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রেখে যান। শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের জন্ম হয়েছে সিএমএইচে। শেখ মুজিবের পরিবারকে ভাতা দেওয়া হত। পরবর্তীতেও শেখ হাসিনাও জাতিকে ভালো কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেননি।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বিএনপি নেতা বলেন, ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়। অথচ এটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই নামকরণ হয়েছিল। তিনি বলেন, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘জিয়া’ (Zia International Airport) ব্যবহার হত, যা পাসপোর্টে সিল থাকত। পরবর্তীতে জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। হযরত শাহজালালের নামকরণে কোনো ভক্তি-শ্রদ্ধা ছিল না। বরং ‘জিয়া’র পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ যেন ‘হাসিনা’ (Hazrat Shahjalal International Airport) হয়, এই হীন স্বার্থে হযরত শাহজালালের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। বেগম জিয়াকে শান্তিতে থাকতে দেনও নাই। অথচ জিয়াউর রহমানই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীকেও পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। অথচ আপনারা আজকে যা মন চায় তা বলছেন আবার ক্ষমা চাচ্ছেন। আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তো লাভ নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দু-একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় লাভ করে যদি সারা বাংলাদেশে জয় লাভ করা যেত, তাহলে মাহমুদুর রহমান মান্না, রুহুল কবির রিজভী, নুরুল হক নুর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন। আপনাদের এই দেশের মানুষ ক্ষমা করবেন না।

বিএনপি শান্তিপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী মানুষদের সংগঠন উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সংস্কার-সংস্কার করে চিৎকার করে সবাই কথা বলছেন। অথচ সংস্কারের জন্মদাতা বিএনপি। জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন, সেটিই ছিল সংস্কারের শুরু। বিএনপির হাতেই বাংলাদেশের সব সংস্কার সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ দফা বাংলাদেশের মানুষের জাতীয় মুক্তির সনদ। তারেক রহমান কন্যা জায়মা রহমান চতুর্থ প্রজন্মে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা রয়েছে, নজরদারিতে রেখেছে ইসরায়েল’

শেখ মুজিব মানুষকে উত্তেজিত করে ‘পাইপ’ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গেছিলেন: আলাল

আপডেট সময় ০৪:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

গত ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনগণকে উত্তেজিত করে চুরুটে পাইপ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সে সময়ে ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান আলোচনা করতে গিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, শেখ মুজিব বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে উত্তেজিত করেছেন। এরপর চুরুটে পাইপ টানতে টানতে পাকিস্তানে চলে গেলেন। নিজের পরিবারকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রেখে যান। শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের জন্ম হয়েছে সিএমএইচে। শেখ মুজিবের পরিবারকে ভাতা দেওয়া হত। পরবর্তীতেও শেখ হাসিনাও জাতিকে ভালো কিছু দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করেননি।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বিএনপি নেতা বলেন, ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়। অথচ এটি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই নামকরণ হয়েছিল। তিনি বলেন, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘জিয়া’ (Zia International Airport) ব্যবহার হত, যা পাসপোর্টে সিল থাকত। পরবর্তীতে জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। হযরত শাহজালালের নামকরণে কোনো ভক্তি-শ্রদ্ধা ছিল না। বরং ‘জিয়া’র পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ যেন ‘হাসিনা’ (Hazrat Shahjalal International Airport) হয়, এই হীন স্বার্থে হযরত শাহজালালের নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। বেগম জিয়াকে শান্তিতে থাকতে দেনও নাই। অথচ জিয়াউর রহমানই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করেছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীকেও পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। অথচ আপনারা আজকে যা মন চায় তা বলছেন আবার ক্ষমা চাচ্ছেন। আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তো লাভ নেই। আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দু-একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয় লাভ করে যদি সারা বাংলাদেশে জয় লাভ করা যেত, তাহলে মাহমুদুর রহমান মান্না, রুহুল কবির রিজভী, নুরুল হক নুর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন। আপনাদের এই দেশের মানুষ ক্ষমা করবেন না।

বিএনপি শান্তিপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী মানুষদের সংগঠন উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সংস্কার-সংস্কার করে চিৎকার করে সবাই কথা বলছেন। অথচ সংস্কারের জন্মদাতা বিএনপি। জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন, সেটিই ছিল সংস্কারের শুরু। বিএনপির হাতেই বাংলাদেশের সব সংস্কার সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ দফা বাংলাদেশের মানুষের জাতীয় মুক্তির সনদ। তারেক রহমান কন্যা জায়মা রহমান চতুর্থ প্রজন্মে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।