ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা, বিদায় নিচ্ছে রমজানও ইরানকে দ্রুত হামলা বন্ধের আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল: ওমান সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে ব্যবহার হবে পাকিস্তানের পরমাণু! ইরানে আগ্রাসনের প্রভাবে ১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি বিবেকবান মার্কিনিরা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন, বিশ্বাস ইরানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় জামায়াত আমির চীনের উপহারকে যৌথ উদ্যোগ বলে বিতরণ, জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ

সেন্টমার্টিনে লিজ নেওয়া কটেজ দখল করতে ব্যর্থ হয়ে নারীর শ্লীলতাহানি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিজ নেওয়া কটেজ ছেড়ে দিতে এক নারীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কটেজ মালিক উসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে দ্বীপের মাঝের পাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘দ্বীপ নিবাস কটেজ’-এ এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আলী আহমদ জানান, গত বছরের ১ আগস্ট তিনি উসমানের কাছ থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মৌসুমের জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় ‘দ্বীপ নিবাস কটেজ’ লিজ নেন। স্ট্যাম্প মূলে করা এই চুক্তির বিপরীতে তিনি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন এবং প্রথম মৌসুম শেষে বাকি ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বর্তমানে দ্বিতীয় মৌসুমের মেয়াদ চলমান থাকলেও মালিকপক্ষ কটেজটি খালি করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

আলী আহমদের স্ত্রী নূর জাহান অভিযোগ করেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি স্বামীর সঙ্গে কটেজে অবস্থান নিতে যান। বুধবার দুপুরে কটেজের মূল মালিক উসমান, তার ভাই জয়নাল এবং মা জুহরা খাতুন এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং কটেজ ছেড়ে দিতে বলেন। প্রতিবাদ জানালে তারা সংঘবদ্ধভাবে নূর জাহানের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তসলিমা আক্তার জানান, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত জুহরা খাতুন নূর জাহানকে মারধর করেন এবং তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। তসলিমা আরও বলেন, “নূর জাহান তখন নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি চাইলে পাল্টা আঘাত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সুমাইয়া জানান, কটেজ ছাড়ার জন্য উসমান ও তার পরিবার প্রতিদিন গালিগালাজ করতেন। ঘটনার দিন গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে তারা তিনজন মিলে নূর জাহানকে মারধর করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত উসমান চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে নিজের মা জুহরাকে মারধর করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন এবং চিকিৎসার অজুহাতে কক্সবাজারে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে উসমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার এবং লিজ নেওয়া সম্পত্তির নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা

সেন্টমার্টিনে লিজ নেওয়া কটেজ দখল করতে ব্যর্থ হয়ে নারীর শ্লীলতাহানি

আপডেট সময় ১২:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

সেন্টমার্টিন দ্বীপে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিজ নেওয়া কটেজ ছেড়ে দিতে এক নারীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কটেজ মালিক উসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে দ্বীপের মাঝের পাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘দ্বীপ নিবাস কটেজ’-এ এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আলী আহমদ জানান, গত বছরের ১ আগস্ট তিনি উসমানের কাছ থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মৌসুমের জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় ‘দ্বীপ নিবাস কটেজ’ লিজ নেন। স্ট্যাম্প মূলে করা এই চুক্তির বিপরীতে তিনি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন এবং প্রথম মৌসুম শেষে বাকি ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বর্তমানে দ্বিতীয় মৌসুমের মেয়াদ চলমান থাকলেও মালিকপক্ষ কটেজটি খালি করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

আলী আহমদের স্ত্রী নূর জাহান অভিযোগ করেন, দুই সপ্তাহ আগে তিনি স্বামীর সঙ্গে কটেজে অবস্থান নিতে যান। বুধবার দুপুরে কটেজের মূল মালিক উসমান, তার ভাই জয়নাল এবং মা জুহরা খাতুন এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং কটেজ ছেড়ে দিতে বলেন। প্রতিবাদ জানালে তারা সংঘবদ্ধভাবে নূর জাহানের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তসলিমা আক্তার জানান, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত জুহরা খাতুন নূর জাহানকে মারধর করেন এবং তার পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। তসলিমা আরও বলেন, “নূর জাহান তখন নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি চাইলে পাল্টা আঘাত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সুমাইয়া জানান, কটেজ ছাড়ার জন্য উসমান ও তার পরিবার প্রতিদিন গালিগালাজ করতেন। ঘটনার দিন গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে তারা তিনজন মিলে নূর জাহানকে মারধর করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত উসমান চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে নিজের মা জুহরাকে মারধর করা হয়েছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন এবং চিকিৎসার অজুহাতে কক্সবাজারে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে উসমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার এবং লিজ নেওয়া সম্পত্তির নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।