ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে মার্কিন নৌবহরকে সতর্কবার্তা দিল ইরান লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম, টালমাটাল তৃণমূলে নতুন ধাক্কা

গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চালের স্লিপ বিতরণ নিয়ে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত জনতার সামনে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভিজিএফ বিতরণে বাধা ও চাপের অভিযোগ করছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫৮টি স্লিপ বিএনপির জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, দলীয় বরাদ্দ নেওয়ার পরও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী অতিরিক্ত স্লিপ নিতে চাপ প্রয়োগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোরপূর্বক নেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে অতিরিক্ত স্লিপ দাবি করা হলে তারা বিপাকে পড়েন, কারণ পূর্বেই উপকারভোগীদের কাছে চাল দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দাবি, অতিরিক্ত স্লিপ না দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সমর্থকদের নিয়ে চাল বিতরণে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে হুমকি দেওয়া হয়। এতে চাল বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে জোরপূর্বক স্লিপ নেওয়ায় তারা ভীত হয়ে পড়েন এবং সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল বিতরণ বাকি রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, চেয়ারম্যান পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা

গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চালের স্লিপ বিতরণ নিয়ে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (১৮ মার্চ) গভীর রাতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত জনতার সামনে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভিজিএফ বিতরণে বাধা ও চাপের অভিযোগ করছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫৮টি স্লিপ বিএনপির জন্য নির্ধারিত ছিল। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, দলীয় বরাদ্দ নেওয়ার পরও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী অতিরিক্ত স্লিপ নিতে চাপ প্রয়োগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি ইউপি সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোরপূর্বক নেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে অতিরিক্ত স্লিপ দাবি করা হলে তারা বিপাকে পড়েন, কারণ পূর্বেই উপকারভোগীদের কাছে চাল দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
সংরক্ষিত নারী সদস্যদের দাবি, অতিরিক্ত স্লিপ না দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সমর্থকদের নিয়ে চাল বিতরণে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে হুমকি দেওয়া হয়। এতে চাল বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে জোরপূর্বক স্লিপ নেওয়ায় তারা ভীত হয়ে পড়েন এবং সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল বিতরণ বাকি রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, চেয়ারম্যান পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।