ঢাকা , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল সরকার-বিরোধী দলের যে কেউ ব্যর্থ হলে পুরো সংসদ ব্যর্থ হবে: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবার আগুনে পুড়লো টিসিবির পণ্য, খালি হাতে ফিরলো নিম্নআয়ের মানুষ নিজের প্রাক্তন কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী-এমপিসহ ৪০ জনের নামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ঝড়ে ভেঙে গেছে মসজিদের মূল অংশ, বারান্দায় নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ৩ ধাপ পেছালো বাংলাদেশ কেরোসিন তেল কি অপবিত্র মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে

এনসিপিসহ ছয় দলের আসনে নেই দাঁড়িপাল্লা, চরমোনাইকে ছেড়ে দেওয়া আসনেও জামায়াতের প্রার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৯২ বার পড়া হয়েছে

প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনী জোট চূড়ান্ত হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে প্রতিশ্রুত অনেক আসনেই উভয় দলের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রার্থী তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে ২৬৮ আসনে। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি ও বিডিপির জন্য ২৪টি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোনো আসন খালি রাখা হয়নি।
জামায়াত যেসব আসন ইসলামী আন্দোলনকে (চরমোনাই) ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব আসনেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন যেসব আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল, সেখানেও হাতপাখার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এতে ইসলামপন্থি দলগুলোর একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আসন বণ্টন নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব
জামায়াত এখন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে ৩১টি আসন ছাড়তে সম্মত হলেও চরমোনাই পীরের দল অন্তত ৭৫টি আসনে নির্বাচন করতে চায়। পাশাপাশি এনসিপির মতো নতুন দলকে ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলন ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
জামায়াতের দাবি, এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপিসহ নতুন শরিকদের নিয়ে জোট বিস্তৃত হওয়ায় আসন সমন্বয় জটিল হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, জামায়াত নিজেদের প্রাধান্য ধরে রাখতে গিয়ে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এনসিপি ও শরিকদের জন্য ছাড়
জামায়াত যে ২৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি, তার অধিকাংশই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এনসিপির জন্য। রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের একটিও না ছাড়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও এনসিপির জন্য রংপুর-৪ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। এই দুই আসনেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন।
এ ছাড়া পঞ্চগড়-১, কুমিল্লা-৪, ঢাকা-১৮, ঢাকা-৮ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের জন্য জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। এসব আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টি, এলডিপি ও বিডিপির শীর্ষ নেতাদের জন্যও কয়েকটি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। তবে এসব আসনের অধিকাংশেই হাতপাখার প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রার্থী
চরমোনাই পীরের ভাই ও ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই দুই আসনেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনেও জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) ও নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) ছাড়া প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতার আসনেই হাতপাখার প্রার্থী রয়েছেন।
সমঝোতা এখনও ঝুলে
জামায়াতের হিসাবে ২৪৮টি আসনে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কোন আসনে কোন দল জোটের প্রার্থী দেবে—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাকি ৫২টি আসনে জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী ঠিক করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত, যা ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মানেনি।
এলডিপিকে সাতটি এবং এবি পার্টিকে তিনটি আসন ছাড়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও এবি পার্টি আরও আসন দাবি করায় জোট ঘোষণাও আটকে আছে। ইসলামী আন্দোলন ৯৪টি আসনে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
কী বলছেন নেতারা
আসন বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে। জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, জোট ভেঙে গেলে দায় ইসলামী আন্দোলনের, কারণ তাদের দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
তবে আসন সমঝোতার সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “২০ জানুয়ারির আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ৩০০ আসনে জোটের একক প্রার্থী থাকবে।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা আশাবাদী নন। তাদের অভিযোগ, জামায়াত বিএনপির মতো শরিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তবে ফয়জুল করীম বলেছেন, জোট ভাঙার শঙ্কা নেই এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।
সব মিলিয়ে মনোনয়ন জমা শেষ হলেও ইসলামপন্থি দলগুলোর জোট ও আসন বণ্টন এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল

এনসিপিসহ ছয় দলের আসনে নেই দাঁড়িপাল্লা, চরমোনাইকে ছেড়ে দেওয়া আসনেও জামায়াতের প্রার্থী

আপডেট সময় ১০:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনী জোট চূড়ান্ত হবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই দলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে প্রতিশ্রুত অনেক আসনেই উভয় দলের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রার্থী তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে ২৬৮ আসনে। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি ও বিডিপির জন্য ২৪টি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। তবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোনো আসন খালি রাখা হয়নি।
জামায়াত যেসব আসন ইসলামী আন্দোলনকে (চরমোনাই) ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেসব আসনেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন যেসব আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল, সেখানেও হাতপাখার প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এতে ইসলামপন্থি দলগুলোর একক প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আসন বণ্টন নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব
জামায়াত এখন পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে ৩১টি আসন ছাড়তে সম্মত হলেও চরমোনাই পীরের দল অন্তত ৭৫টি আসনে নির্বাচন করতে চায়। পাশাপাশি এনসিপির মতো নতুন দলকে ৩০টি আসন ছাড় দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলন ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
জামায়াতের দাবি, এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপিসহ নতুন শরিকদের নিয়ে জোট বিস্তৃত হওয়ায় আসন সমন্বয় জটিল হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, জামায়াত নিজেদের প্রাধান্য ধরে রাখতে গিয়ে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এনসিপি ও শরিকদের জন্য ছাড়
জামায়াত যে ২৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি, তার অধিকাংশই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এনসিপির জন্য। রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের একটিও না ছাড়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও এনসিপির জন্য রংপুর-৪ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। এই দুই আসনেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন।
এ ছাড়া পঞ্চগড়-১, কুমিল্লা-৪, ঢাকা-১৮, ঢাকা-৮ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের জন্য জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। এসব আসনেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টি, এলডিপি ও বিডিপির শীর্ষ নেতাদের জন্যও কয়েকটি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি। তবে এসব আসনের অধিকাংশেই হাতপাখার প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রার্থী
চরমোনাই পীরের ভাই ও ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই দুই আসনেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনেও জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) ও নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১) ছাড়া প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতার আসনেই হাতপাখার প্রার্থী রয়েছেন।
সমঝোতা এখনও ঝুলে
জামায়াতের হিসাবে ২৪৮টি আসনে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কোন আসনে কোন দল জোটের প্রার্থী দেবে—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাকি ৫২টি আসনে জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী ঠিক করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত, যা ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মানেনি।
এলডিপিকে সাতটি এবং এবি পার্টিকে তিনটি আসন ছাড়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও এবি পার্টি আরও আসন দাবি করায় জোট ঘোষণাও আটকে আছে। ইসলামী আন্দোলন ৯৪টি আসনে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
কী বলছেন নেতারা
আসন বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে। জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, জোট ভেঙে গেলে দায় ইসলামী আন্দোলনের, কারণ তাদের দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
তবে আসন সমঝোতার সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “২০ জানুয়ারির আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ৩০০ আসনে জোটের একক প্রার্থী থাকবে।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা আশাবাদী নন। তাদের অভিযোগ, জামায়াত বিএনপির মতো শরিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তবে ফয়জুল করীম বলেছেন, জোট ভাঙার শঙ্কা নেই এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।
সব মিলিয়ে মনোনয়ন জমা শেষ হলেও ইসলামপন্থি দলগুলোর জোট ও আসন বণ্টন এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।