কেউ কেউ মনে করেন, কেরোসিন তেল নাপাক বা অপবিত্র। এতে দুর্গন্ধ থাকার কারণে তারা এমনটি মনে করেন। কিন্তু কেরোসিন তেল মৌলিকভাবে পবিত্র। এটি কাপড়ে বা শরীরে লাগলে তা নাপাক হয় না। কেরোসিন তেল লেগেছে এমন পোশাক পরে নামাজ পড়লে নামাজ হবে। তবে দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে এটি বহন করে মসজিদে না আসাই ভালো।
ইসলামি শরিয়ত সীমিত কিছু জিনিসকে অপবিত্র ঘোষণা করেছে। যেমন—মৃত প্রাণী, প্রবহমান রক্ত, মলমূত্র, পুঁজ, শূকর, কুকুরের লালা ও মদ ইত্যাদি। শরিয়তঘোষিত অপবিত্র জিনিসগুলো ছাড়া বাকি সব জিনিস মৌলিকভাবে পবিত্র।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কেরোসিন একটি খনিজ তেল এবং তা বেশ দুর্গন্ধযুক্ত। দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তা মসজিদে নেওয়া মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। একান্ত প্রয়োজনে মসজিদে তা ব্যবহার করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন মসজিদের ফ্লোরে বা জায়নামাজে না পড়ে। দুর্গন্ধের কারণে কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে নামাজ পড়াও মাকরুহ।
হয়তো অনেকে মনে করেন, কেরোসিন তেল নাপাক—তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। কেরোসিন তেল নাপাক নয়। কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তা মসজিদে নেওয়া অনুচিত। (ফতোয়া উসমানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৫১)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সমাজের অনেকে মনে করেন, কেরোসিন নাপাক বা অপবিত্র—তাদের ধারণা ভুল। কেরোসিন নাপাক বা অপবিত্র নয়। এটা তেল—তেল নাপাক হবে কেন?’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















