ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৭ দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন জামায়াত আমির ‘আহারে ব্রো লাইফটাই স্পয়েল হয়ে গেল’-আসিফ মাহমুদকে কটাক্ষ করে নীলার পোস্ট দুই দশকেও উপকূলীয় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ঘোচেনি লুটেরাদের হাতে ব্যাংক ফিরিয়ে দিলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকরা সংসদে সুগার মিল নিয়ে আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন একটি হয়েছে ১৫ বছরের দুর্নীতি আর ১৮ মাস ভুল নীতি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মেয়ের বিয়ের পাত্র নিয়ে পালালেন মা যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২০ ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, জানালেন ফিফা সভাপতি

দুই দশকেও উপকূলীয় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ঘোচেনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

দুই দশকেও উপকূলীয় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ঘোচেনি

প্রায় দুই দশক আগে দেশে সমান মজুরি আইন পাস হলেও সাতক্ষীরার উপকুলীয় জনপদে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। একই সময়, একই শ্রম এবং সমপরিমাণ কাজ করেও নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন অনেক কম। দীর্ঘ ২০ বছরেও ‘সমান কাজে, সমান মজুরি’ আইনের সুফল পৌঁছায়নি সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরার সংগ্রামী নারীদের কাছে।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার শ্যামনগর ও আশাশুনির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বিশেষ করে ‘সফটশেল’ কাঁকড়া চাষে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

 

 

স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে একজন নারী শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এমন কি মাসিক বেতনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

 

 

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া খামারের শ্রমিক রিনা খাতুন বলেন, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করে মাসিক বেতন পাই ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। কাজ সমান হলেও পুরুষ হওয়ায় তার কদর বেশি। বারবার বলেও কোন লাভ হয় না।

 

একই অভিযোগ ধান কাটা শ্রমিক জরিনা বেগমের। তিনি জানান, এক বেলা কাজ করলে একজন পুরুষ ৮০০ টাকা পেলেও নারীদের দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা।

শ্রমিক কামরুল মল্লিক ও তার স্ত্রী ইটে ভাটায় কাজ করেন একসাথে। কামরুল বলেন, আমরা একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় আমার স্ত্রীকে কম টাকা দেওয়া হয়। এটা অন্যায়।

 

 

বেসরকারি সংস্থা সিসিটিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন মনে করেন, এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। তিনি বলেন, নারীরা শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখলেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মালিকপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও এই মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তার জানান, শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা ফ্রশাসন কাজ করছে। এই বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন জামায়াত আমির

দুই দশকেও উপকূলীয় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ঘোচেনি

আপডেট সময় ১০:০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

দুই দশকেও উপকূলীয় নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য ঘোচেনি

প্রায় দুই দশক আগে দেশে সমান মজুরি আইন পাস হলেও সাতক্ষীরার উপকুলীয় জনপদে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। একই সময়, একই শ্রম এবং সমপরিমাণ কাজ করেও নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় মজুরি পাচ্ছেন অনেক কম। দীর্ঘ ২০ বছরেও ‘সমান কাজে, সমান মজুরি’ আইনের সুফল পৌঁছায়নি সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরার সংগ্রামী নারীদের কাছে।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলার শ্যামনগর ও আশাশুনির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বিশেষ করে ‘সফটশেল’ কাঁকড়া চাষে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

 

 

স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, যেখানে একজন পুরুষ শ্রমিক দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে একজন নারী শ্রমিকদের দেওয়া হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এমন কি মাসিক বেতনের ক্ষেত্রেও ব্যবধান দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

 

 

শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া খামারের শ্রমিক রিনা খাতুন বলেন, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করে মাসিক বেতন পাই ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। কাজ সমান হলেও পুরুষ হওয়ায় তার কদর বেশি। বারবার বলেও কোন লাভ হয় না।

 

একই অভিযোগ ধান কাটা শ্রমিক জরিনা বেগমের। তিনি জানান, এক বেলা কাজ করলে একজন পুরুষ ৮০০ টাকা পেলেও নারীদের দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা।

শ্রমিক কামরুল মল্লিক ও তার স্ত্রী ইটে ভাটায় কাজ করেন একসাথে। কামরুল বলেন, আমরা একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় আমার স্ত্রীকে কম টাকা দেওয়া হয়। এটা অন্যায়।

 

 

বেসরকারি সংস্থা সিসিটিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রুপন মনে করেন, এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। তিনি বলেন, নারীরা শ্রমবাজারে বড় ভূমিকা রাখলেও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মালিকপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও এই মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে না পারলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আক্তার জানান, শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা ফ্রশাসন কাজ করছে। এই বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।