ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে ঘিরে কড়া নিয়ম প্রয়োগ করছে দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্ক না তৈরি হয়।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। সেই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত হলে তাকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধুমাত্র প্রার্থী বা অনুমোদিত প্রতিনিধিদেরই গণনাকেন্দ্রে থাকার অনুমতি রয়েছে। যেহেতু তিনি প্রার্থী নন, তাই তাকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
সব মিলিয়ে, ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গণনা চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি এই তিন অঞ্চলের ফলাফল বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বে গঠিত তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) এবারের নির্বাচনে চমক দেখাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৩৪টি আসনের মধ্যে তারা ১০৯টিতে এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট ৭১টির বেশি আসনে এগিয়ে আছে। ক্ষমতাসীন ডিএমকে, যারা কংগ্রেস ও ডিএমডিকে’র সঙ্গে জোটে রয়েছে, তারা প্রায় ৫০টির বেশি আসনে এগিয়ে থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে মূল লড়াই হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ইতোমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১৪৮ অতিক্রম করে ১৯৯টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৮৮টি আসনে এগিয়ে থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব বেড়েছে কয়েকটি কারণে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিজেপি এবার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এই নির্বাচনের আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















