স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফ উপকূলে নোঙর করা হান্টাভাইরাস আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এমএস হন্ডিয়াস নামের ওই জাহাজ থেকে ধাপে ধাপে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রবিবার (১০ মে) বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত যাত্রীদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। প্রথম দফার উদ্ধার অভিযানে যাত্রীদের মাস্ক পরা অবস্থায় জাহাজের ডেকে ও জানালার পাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রীদের জাতীয়তা অনুযায়ী ভাগ করে ছোট নৌকায় উপকূলে আনা হচ্ছে। পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার্টার্ড বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্পেনীয়, ডাচ, গ্রিক, জার্মানসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের হ্যাজম্যাট স্যুট পরিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আইসোলেশন প্রোটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে সোমবার ছাড়ার কথা রয়েছে।
জাহাজটি এক মাস আগে প্রথম সংক্রমণের পর গ্রানাদিয়া বন্দরে প্রবেশ করে এবং এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়। তেনেরিফ উপকূলে এক নটিক্যাল মাইল জুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে সামরিক পুলিশ টহল দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি অবস্থায় যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই অভিযানের প্রশংসা করে একে “কঠোর ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, আতঙ্ক নয় বরং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল। তবে প্রমোদতরীর সীমিত পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
এ পর্যন্ত জাহাজে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জটিল অভিযানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।সরকারী সংবাদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোভিড-১৯ এর মতো সহজে ছড়ানো ভাইরাস নয়, বরং সংক্রমণের জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে স্থানীয় জনগণ ও বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকি সীমিত হলেও সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, সমুদ্রে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং শুরু হচ্ছে কঠোর কোয়ারেন্টাইন ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















