ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাশরাফীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সারজিস মাশরাফির পুরো ক্যারিয়ার শহীদের দুই ফোঁটা রক্তের কাছে নস্যি: রিফাত রশীদ আল্লাহর ভয় ও সৎ চরিত্র ছাড়া দুর্নীতি দূর করা অসম্ভব: সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক মমতাকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে উত্তেজনা, ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সরাসরি সংঘাত হতে পারে: ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি শি জিনপিংয়ের লাশ হয়ে ফিরলেন মেজরসহ ৫ পাকিস্তানি সেনা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিলারের বৈঠক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় মানুষের ঢল, জয় বাংলা স্লোগানে বিদায়

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতে অভিন্ন ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে ফের তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনার পর মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। তিনি দাবি তুলেছেন, এই অভিন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা উচিত এবং এর পরিবর্তে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই ডাক্তারি, দন্তচিকিৎসা ও আয়ুষ কোর্সে ভর্তি নেওয়া হোক।

সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিজয় বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করছে। তার অভিযোগ, গত বছরও একাধিক রাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে। বিশেষজ্ঞ কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।

তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই ব্যবস্থা শহুরে ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে, ফলে গ্রামীণ, দরিদ্র ও আঞ্চলিক ভাষার শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তার বক্তব্যে আরও বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের ধারাবাহিক ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত যোগ্যতার বেশি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হতে পারে, যেখানে একদিনের পরীক্ষার ওপর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করে না। তার মতে, কোচিংনির্ভর এই ব্যবস্থায় প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। এই ইস্যুতে তামিলনাড়ুর অবস্থান নতুন নয়। রাজ্য সরকার আগেও এই পরীক্ষা থেকে ছাড় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিরোধী বিল এখনো রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর দেশজুড়ে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, পুরো ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক দাবি ও শিক্ষাব্যবস্থার অসন্তোষকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, যা দক্ষিণ ভারতের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকেও নতুন করে উসকে দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাশরাফীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সারজিস

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

এবার ভারতে অভিন্ন ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ঘিরে ফের তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনার পর মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। তিনি দাবি তুলেছেন, এই অভিন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা উচিত এবং এর পরিবর্তে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই ডাক্তারি, দন্তচিকিৎসা ও আয়ুষ কোর্সে ভর্তি নেওয়া হোক।

সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিজয় বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করছে। তার অভিযোগ, গত বছরও একাধিক রাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল এবং তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে। বিশেষজ্ঞ কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।

তামিলনাড়ু দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এই ব্যবস্থা শহুরে ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে, ফলে গ্রামীণ, দরিদ্র ও আঞ্চলিক ভাষার শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তার বক্তব্যে আরও বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের ধারাবাহিক ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত যোগ্যতার বেশি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড হতে পারে, যেখানে একদিনের পরীক্ষার ওপর পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করে না। তার মতে, কোচিংনির্ভর এই ব্যবস্থায় প্রকৃত মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। এই ইস্যুতে তামিলনাড়ুর অবস্থান নতুন নয়। রাজ্য সরকার আগেও এই পরীক্ষা থেকে ছাড় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং রাজ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া বিরোধী বিল এখনো রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাম্প্রতিক অভিযোগের পর দেশজুড়ে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, পুরো ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক দাবি ও শিক্ষাব্যবস্থার অসন্তোষকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, যা দক্ষিণ ভারতের শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকেও নতুন করে উসকে দিয়েছে।