ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শি’শু’র মৃ’ত্যু পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস সংশোধন হচ্ছে, যুক্ত হবে গণ-অভ্যুত্থান ফতুল্লার মর্মান্তিক গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল পরিবারের সবাই তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল প্রস্তাব পেয়েছিলেন, তবে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই: মুশফিক দলীয় বিবেচনায় ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে প্রতিবাদ জামায়াতের লেবাননে দুই মাসে ২০ ইসরাইলি সেনা ও কর্মী নিহত মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম স্বর্ণের দামে স্বস্তি, ভরিতে কমল কত টাকা

পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস সংশোধন হচ্ছে, যুক্ত হবে গণ-অভ্যুত্থান

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে, প্রকৃত সত্য ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে এসব সংশোধন ও সংযোজন হচ্ছে। বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে বীর নায়কদের কার কী অবদান, তা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪-৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন।

মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে।

আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ সব স্তরের মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই পরিমার্জিত ও নির্ভুল বই হাতে পায়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাতটি গেমসের ভিত্তিতে বইগুলো সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্য শ্রেণিতেও যুক্ত করা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও আগামী বছর যুক্ত করা হচ্ছে।

আইসিটি বইয়ের আমূল পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বইগুলো অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজাচ্ছি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষার্থী-বান্ধব নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে। এর মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের জন্য আমরা পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করছি। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখবে, তখন অভিভাবকরাও এটি পছন্দ করবেন।’

২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস সংশোধন হচ্ছে, যুক্ত হবে গণ-অভ্যুত্থান

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে, প্রকৃত সত্য ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে এসব সংশোধন ও সংযোজন হচ্ছে। বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, এবার তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে বীর নায়কদের কার কী অবদান, তা সঠিকভাবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের একপেশে স্বীকৃতি সংশোধন করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪-৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী নিবিড় আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকের বই পরিমার্জনের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান এনসিটিবির চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে দেশের প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) গবেষক এবং অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন।

মাধ্যমিকের বই পরিমার্জনের কাজ শেষ করে এখন প্রাথমিকের বই নিয়ে কাজ চলছে।

আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ সব স্তরের মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে ২০২৭ সালের শুরুতেই পরিমার্জিত ও নির্ভুল বই হাতে পায়, সে লক্ষ্যেই দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি বই প্রণয়ন করা হচ্ছে। শিশুদের শারীরিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সাতটি গেমসের ভিত্তিতে বইগুলো সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে। পর্যায়ক্রমে এটি অন্য শ্রেণিতেও যুক্ত করা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্দীপনামূলক বইও আগামী বছর যুক্ত করা হচ্ছে।

আইসিটি বইয়ের আমূল পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বইগুলো অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। আমরা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজাচ্ছি। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।’

মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষার্থী-বান্ধব নতুন কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছে। এর মূল দর্শন হবে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’। এতে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের জন্য আমরা পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ করছি। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলামও হতে পারে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুসরণ করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা যখন আনন্দের সঙ্গে শিখবে, তখন অভিভাবকরাও এটি পছন্দ করবেন।’

২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিচ্যুতিমুক্ত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।