ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আটকে থাকা ইরানি তহবিল দিয়ে ইরানের জন্যই মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে চান ট্রাম্প এক বছরের মধ্যেই গুমের সব মামলার নিষ্পত্তি: ট্রাইব্যুনাল অব্যবহৃত মোবাইল ডাটার মেয়াদ নিয়ে সংসদে ক্ষোভ রাফিনিয়াকে ঘিরে দেউলিয়ার গুঞ্জন, চাঞ্চল্য ফুটবল মহলে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে সরকার: অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংকটের জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেন: জামায়াত আমির ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিরোপা জয়ের রেকর্ডের সঙ্গে লাল কার্ডের রেকর্ডও ব্রাজিলের শেষ বত্রিশের দরজা খুলল যাদের জন্য, বিদায় নিল কারা

মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ১২০ বার পড়া হয়েছে

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় এক মাসের বেশি কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) এবার তীব্র মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। কারাজীবনের ভয়াবহ মানসিক চাপ ও সামাজিক অপমানের প্রভাব তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তাকে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তারেক রেজা নিজের ফেসবুক পোস্টে মোজাফফরের সর্বশেষ অবস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, জেলে থাকা অবস্থাতেই মোজাফফর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হয়েছিলেন। তবে মুক্তির পর তার মধ্যে ভয়াবহ সাইকোসিস বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দেয়।

তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ভাই ইমনের বাসায় নেওয়ার পর হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন মোজাফফর। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ইমন ও ইফতিকে মারধর এবং কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটে ঢুকে অন্যদেরও আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাকে বেঁধে ফেলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।

পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে জানান তারেক রেজা। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনগত অভিভাবক না থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রেজা বলেন, রাত ৪টার দিকে যোগাযোগ করার পর তিনি মোজাফফরের সারাজীবনের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। ওইদিন স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করে এক কিশোরীর পরিবার। গ্রেপ্তারের পর টানা ৩২ দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি হারাতে হয় মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর চাকরিও।

পরবর্তীতে তদন্তে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ও সিআইডি জানতে পারে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী স্বীকার করেন, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন এবং পরিবার মূল ঘটনা আড়াল করতেই নিরপরাধ মোজাফফরকে ফাঁসিয়েছিল।

ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার পর আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে মোজাফফরকে অব্যাহতির সুপারিশ এবং মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আটকে থাকা ইরানি তহবিল দিয়ে ইরানের জন্যই মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে চান ট্রাম্প

মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম

আপডেট সময় ০২:২২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় এক মাসের বেশি কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) এবার তীব্র মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন। কারাজীবনের ভয়াবহ মানসিক চাপ ও সামাজিক অপমানের প্রভাব তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তাকে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তারেক রেজা নিজের ফেসবুক পোস্টে মোজাফফরের সর্বশেষ অবস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, জেলে থাকা অবস্থাতেই মোজাফফর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হয়েছিলেন। তবে মুক্তির পর তার মধ্যে ভয়াবহ সাইকোসিস বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দেয়।

তারেক রেজার ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ভাই ইমনের বাসায় নেওয়ার পর হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন মোজাফফর। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ইমন ও ইফতিকে মারধর এবং কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটে ঢুকে অন্যদেরও আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাকে বেঁধে ফেলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হয়।

পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ইনজেকশন দেওয়ার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে জানান তারেক রেজা। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনগত অভিভাবক না থাকায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রেজা বলেন, রাত ৪টার দিকে যোগাযোগ করার পর তিনি মোজাফফরের সারাজীবনের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। ওইদিন স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করে এক কিশোরীর পরিবার। গ্রেপ্তারের পর টানা ৩২ দিন কারাভোগ করতে হয় তাকে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি হারাতে হয় মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর চাকরিও।

পরবর্তীতে তদন্তে আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ও সিআইডি জানতে পারে, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী স্বীকার করেন, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন এবং পরিবার মূল ঘটনা আড়াল করতেই নিরপরাধ মোজাফফরকে ফাঁসিয়েছিল।

ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার পর আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে মোজাফফরকে অব্যাহতির সুপারিশ এবং মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।