পুলিশের চাকরিকে ব্যবসায় বলা সেই ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
“পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস”—এ ধরনের একটি বক্তব্য সংবলিত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেত্রকোণা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, রবিবার (৩১ মে) সকালে ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশের (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত শনিবার (৩০ মে) ভাইরাল হওয়া অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা।” পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, অর্থ লেনদেন এবং থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়।
অডিওতে আরও শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাবো না। সবাই মিলেমিশে থাকবো। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ করে ফেললেন এক হাজার টাকা—ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পার পেয়ে গেলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।”
ওসি আরও বলেন, “পুলিশের চাকরিটা এক ধরনের ব্যবসা। সবাই কিন্তু এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনকে সেফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খেতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না। আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করছি, না জমি বিক্রি করে আপনাদের চালাচ্ছি? সবাই যেন ভালো থাকতে পারি, যার যার অধিকার যেন সে পায়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে… আমরা সেটা বুঝতে পারি। কেউ চালাকি করলে সেটা বোঝা যায়। সবাই যেন সিস্টেমের মধ্যে মিলে চলে।”
তবে ভাইরাল অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে এমন রেকর্ড তার নামে প্রচার হলো, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















