ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

কারামুক্তির পর স্বস্তি মিলল না, গুলিবিদ্ধ কাইল্যা পলাশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

কারামুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ (৫৫)। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হত্যাচেষ্টার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ছেলে পলককে নিয়ে জুমার নামাজ পড়তে যান কাইল্যা পলাশ। নামাজ শেষে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকার রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পলাশ। মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি আগে থেকেই ওই রাস্তার মুখে অবস্থান করছিলেন। পলাশ হেঁটে হেঁটে তার কাছাকাছি এলে গুলি চালায় সে। প্রথম দুটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরবর্তী একটি গুলি তার মাথায় লাগে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢামেক হাসপাতালে তার অনুসারী ও পরিচিতদের ভিড় দেখা যায়। এদের অধিকাংশ স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মী। তাদের সবার পলাশের বাবার মিলাত ও দোয়ায় অংশ নিতে তার বাসায় যাবার কথা ছিল।

 

পলাশকে হত্যাচেষ্টা ও তার অতীত কর্মকাণ্ড মাথায় রেখে নেপথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার আগের ও পরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় আলোচিত মিজান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত কাইল্যা পলাশকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে গত ৭ মে মুক্তি পান পলাশ। এলাকায় ফিরে তিনি আবারও ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন খাস জমি, মার্কেট ও নবনির্মিত ভবনকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপুরা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কারাগারে থাকলেও পলাশের প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। আদালতে হাজিরা, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য কারণে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগে সে এলাকায় যাতায়াত করত। এমনকি কারাগারে থাকাকালেও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা আদায় করত। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় রামপুরার বাসায় প্রতি মাসে দু-তিনবার যাতায়াত করত সে।

তিনি আরও জানান, সে সময় রোগী সেজে কারাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন পলাশ। সেসব হাসপাতালে তার পরিবারের অবাধ যাতায়াত ছিল। আদালতে হাজিরা দিতে এসে রামপুরার বাসায় তিনি সময় কাটাতেন। এমনকি সে কারাবন্দি হওয়া সত্ত্বেও তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি, কারাবন্দি থাকাকালেও তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডিশ ব্যবসা ও মাদক কারবার পরিচালিত হতো। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণকাজ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও ছিল তার নামে। কারামুক্তির পর সে আগের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপও তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।

 

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

 

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কাইল্যা পলাশের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে না ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘মুসলিম লীগ’ হয়ে যাবে : গোলাম মাওলা রনি

কারামুক্তির পর স্বস্তি মিলল না, গুলিবিদ্ধ কাইল্যা পলাশ

আপডেট সময় ১০:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কারামুক্তির পাঁচ দিনের মাথায় জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্যা পলাশ (৫৫)। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হত্যাচেষ্টার এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার ছেলে পলককে নিয়ে জুমার নামাজ পড়তে যান কাইল্যা পলাশ। নামাজ শেষে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকার রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পলাশ। মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি আগে থেকেই ওই রাস্তার মুখে অবস্থান করছিলেন। পলাশ হেঁটে হেঁটে তার কাছাকাছি এলে গুলি চালায় সে। প্রথম দুটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরবর্তী একটি গুলি তার মাথায় লাগে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢামেক হাসপাতালে তার অনুসারী ও পরিচিতদের ভিড় দেখা যায়। এদের অধিকাংশ স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মী। তাদের সবার পলাশের বাবার মিলাত ও দোয়ায় অংশ নিতে তার বাসায় যাবার কথা ছিল।

 

পলাশকে হত্যাচেষ্টা ও তার অতীত কর্মকাণ্ড মাথায় রেখে নেপথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার আগের ও পরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় আলোচিত মিজান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত কাইল্যা পলাশকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে গত ৭ মে মুক্তি পান পলাশ। এলাকায় ফিরে তিনি আবারও ডিশ ব্যবসা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন খাস জমি, মার্কেট ও নবনির্মিত ভবনকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামপুরা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কারাগারে থাকলেও পলাশের প্রভাব পুরোপুরি কমেনি। আদালতে হাজিরা, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য কারণে কারাগারের বাইরে আসার সুযোগে সে এলাকায় যাতায়াত করত। এমনকি কারাগারে থাকাকালেও তার অনুসারীরা তার নামে চাঁদা আদায় করত। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় রামপুরার বাসায় প্রতি মাসে দু-তিনবার যাতায়াত করত সে।

তিনি আরও জানান, সে সময় রোগী সেজে কারাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন পলাশ। সেসব হাসপাতালে তার পরিবারের অবাধ যাতায়াত ছিল। আদালতে হাজিরা দিতে এসে রামপুরার বাসায় তিনি সময় কাটাতেন। এমনকি সে কারাবন্দি হওয়া সত্ত্বেও তার স্ত্রী একটি সন্তান জন্ম দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি, কারাবন্দি থাকাকালেও তার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডিশ ব্যবসা ও মাদক কারবার পরিচালিত হতো। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণকাজ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও ছিল তার নামে। কারামুক্তির পর সে আগের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপও তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।

 

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

 

ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কাইল্যা পলাশের চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।