আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ভিন্নতা থাকলেও ফুটবল দুই দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে এক অনন্য বন্ধন। সেই বন্ধনের টানেই বিশ্বকাপ উন্মাদনা কাছ থেকে দেখতে এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ভ্রমণ লেখক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংস্কৃতিক দূত ড্যান লান্দে, যিনি ‘রুলো’ নামেই বেশি পরিচিত।
রোববার (২১ জুন) সকালে ড্যান লান্দে ও তাঁর দল ঢাকায় পৌঁছান। সন্ধ্যায় তাঁরা প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। সফরসঙ্গীরা কার্যালয় ঘুরে দেখেন এবং কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বাংলাদেশে অবস্থানের কথা রয়েছে।
ঢাকার আর্জেন্টিনা দূতাবাস জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সফরকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্বকাপ ঘিরে জনউচ্ছ্বাস প্রত্যক্ষ করা এবং বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ড্যান লান্দের সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন আর্জেন্টিনার সৃজনশীল অঙ্গনের আরও কয়েকজন প্রতিনিধি—ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল এবং সান্তিয়াগো কন্দে। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই তাঁদের এই সফর।
বাংলাদেশে এসে স্থানীয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়েছেন ড্যান লান্দে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই তাঁদের এই সফর। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।”
ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ তিনি। বিমানবন্দর থেকে শহরের পথে আসার সময় বিভিন্ন ভবনের ছাদে উড়তে থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা তাঁর নজর কাড়ে। ড্যান লান্দের মতে, আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশিদের যে আবেগ, তা অনেক আর্জেন্টাইনও কল্পনা করতে পারেন না। এমনকি চলমান বিশ্বকাপের আবহ উপভোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো বা কানাডার চেয়ে বাংলাদেশকেই বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, ড্যান লান্দে ও তাঁর দল পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, আমিনবাজার এবং মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যাবেন। সেখানে তাঁরা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাবেন। এছাড়া ২৪ জুন আর্জেন্টাইন মহাতারকা Lionel Messi-র জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের।
বিশ্বকাপের ২২ ও ২৮ জুনের ম্যাচগুলোও বাংলাদেশের সমর্থকদের সঙ্গে বড় পর্দায় উপভোগ করবেন ড্যান লান্দে ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। পাশাপাশি ম্যাচ ঘিরে জনসমাগম, উৎসব ও উদ্যাপনের চিত্রও কাছ থেকে দেখবেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পান ড্যান লান্দে। সে সময় তিনি আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালান, যা দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক আগ্রহ ও বন্ধুত্বকে নতুন মাত্রা দেয়।
আর্জেন্টিনা দূতাবাসের মতে, ফুটবলকেন্দ্রিক এই আন্তরিক সম্পর্ক এখন আর কেবল সমর্থনের আবেগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংস্কৃতি, পর্যটন, বাণিজ্য এবং ক্রীড়াকূটনীতির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























