ইসরায়েলে বসবাসরত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত লেখক ও শিক্ষাবিদ সিনক্লেয়ার ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের পতাকা সম্বলিত কিপ্পা পরে আবারও আলোচনায় এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সহাবস্থান ও শান্তির বার্তা দিতেই তিনি এ ধরনের কিপ্পা ব্যবহার করেন এবং নিজের বিশ্বাস প্রকাশে কোনো ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।
গত এপ্রিলে জেরুজালেমে পুলিশের এক অভিযানে তার কিপ্পা থেকে ফিলিস্তিনি পতাকার অংশ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাকে সাময়িকভাবে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কিপ্পাটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়।
সিনক্লেয়ার জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তিনি প্রথমবারের মতো এই বিশেষ নকশার কিপ্পাটি তৈরি করিয়েছিলেন, যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকাই একসঙ্গে ছিল। সময়ের সঙ্গে এটি তার পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি তিনি জেরুজালেমের একটি দোকানে একই নকশার নতুন কিপ্পা তৈরি করান। দোকান মালিক প্রথমে তাকে চিনতে না পারলেও পরে পুরো ঘটনা জানার পর নতুন কিপ্পা তৈরিতে সম্মত হন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে দোকানটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সিনক্লেয়ারের ভাষ্য, ইসরায়েলে কিপ্পা শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এটি রাজনৈতিক অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করে। বিভিন্ন ধরনের কিপ্পা দেখে ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
তিনি স্বীকার করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি পতাকার ব্যবহার আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তবুও তিনি মনে করেন, দুই পতাকা একসঙ্গে বহন করা বিভাজনের নয়, বরং সহাবস্থান ও শান্তির বার্তা দেয়।
পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং পরে তিনি অনেকের সহানুভূতিও পান বলে জানান। বর্তমানে নতুন কিপ্পা পরে আবারও প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান তিনি।
“আমি যা বিশ্বাস করি, তা প্রকাশ করতে পিছপা হব না,” বলেন সিনক্লেয়ার।

ডেস্ক রিপোর্ট 























