ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবানন নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব দিলেন আহমেদ আল-শারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সিরিয়া লেবাননের সঙ্গে সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাশহাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারা বলেন, আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি।

এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে দমন করতে পারছে না দেখে আমি হতাশ। আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে তুলে দিতে চাচ্ছি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অংশ হিসেবে গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নারী ও শিশুসহ ৪,০৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই চুক্তির পর শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে সংঘর্ষ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

 

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনেও ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল যদি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সবাইকে হত্যা না করে কাজটি করতে না পারে, তাহলে শারা তা করবে। সিরিয়াই কাজটি করবে।

তবে শারা এ ধারণা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছি যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত। এর জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি সিরিয়া ও লেবাননের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি এমন কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সিরিয়া ও লেবাননের উদ্বেগের পাশাপাশি ইসরায়েলের উদ্বেগও বিবেচনায় নেবে।

শারা বলেন, সিরিয়ার কাছে লেবাননে ইতিবাচক প্রভাব রাখার অনেক উপায় রয়েছে। তবে সেটি মূলত লেবাননের সম্মতির ওপর নির্ভর করে। লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অংশ। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শারা বলেন, যদি তা লেবাননের স্বার্থ রক্ষা করে এবং একইসঙ্গে সিরিয়ার স্বার্থও সুরক্ষিত করে, তাহলে কেন নয়?

উল্লেখ্য, বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হিজবুল্লাহ আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াই করেছিল।

সূত্র : এএফপি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবের জবাব দিলেন আহমেদ আল-শারা

আপডেট সময় ১০:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সিরিয়া লেবাননের সঙ্গে সামরিক নয়, বরং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাশহাদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারা বলেন, আমরা লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ খুঁজছি।

এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে দমন করতে পারছে না দেখে আমি হতাশ। আমি বিষয়টি সিরিয়ার হাতে তুলে দিতে চাচ্ছি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অংশ হিসেবে গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নারী ও শিশুসহ ৪,০৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওই চুক্তির পর শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে সংঘর্ষ আপাতত স্থগিত রয়েছে।

 

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনেও ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল যদি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সবাইকে হত্যা না করে কাজটি করতে না পারে, তাহলে শারা তা করবে। সিরিয়াই কাজটি করবে।

তবে শারা এ ধারণা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছি যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত। এর জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি সিরিয়া ও লেবাননের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এর পাশাপাশি এমন কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সিরিয়া ও লেবাননের উদ্বেগের পাশাপাশি ইসরায়েলের উদ্বেগও বিবেচনায় নেবে।

শারা বলেন, সিরিয়ার কাছে লেবাননে ইতিবাচক প্রভাব রাখার অনেক উপায় রয়েছে। তবে সেটি মূলত লেবাননের সম্মতির ওপর নির্ভর করে। লেবাননের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অংশ। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শারা বলেন, যদি তা লেবাননের স্বার্থ রক্ষা করে এবং একইসঙ্গে সিরিয়ার স্বার্থও সুরক্ষিত করে, তাহলে কেন নয়?

উল্লেখ্য, বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে হিজবুল্লাহ আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াই করেছিল।

সূত্র : এএফপি