ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সেই স্কুলকে জাতীয়করণের নির্দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

 

বান্দরবানের দুর্গম থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলটিকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপটি পাঠিয়েছেন।

 

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংসদে আসার পূর্বে ওনার (প্রধানমন্ত্রী) অফিস থেকে একটা টেক্সট পেলাম। সেখানে লেখা রয়েছে- বান্দরবানের দুর্গম থানচির তিন্দু এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে এক ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান থানচি–তিন্দু–রেমাক্রী নদীপথে। পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করে তার আয় হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন সহকর্মীদের বেতন হিসেবে। দুর্গম স্কুলটি টিকিয়ে রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা আমার কাছে পাঠিয়েছেন।

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার সর্বোচ্চ বাজেট তিনি দিয়েছেন। যা জিডিপির ২ শতাংশ। আমরা কিন্তু আগে কখনো পাইনি।

 

বিগত সরকারের সময় শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, তার মধ্যেও ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি। আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সেখান থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল।

 

এবার শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই বরাদ্দের একটি অংশ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যায়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই টাকা থেকে আমরা অবশ্যই কিছু টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা খাতে দিয়ে থাকি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আমরা ১০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা দিয়ে থাকি।

 

এই বরাদ্দ থেকে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ের সংকট সমাধান হওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে মিলন বলেন, আশা করি সেখান থেকে তারা এই টাকা খরচ করত, কিন্তু করেনি। দৃষ্টি পড়েছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ফ্রি ওয়াইফাই, ইউনিক এডুকেশন আইডি এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা চলছে। বাজেটের বিভিন্ন অংশ যদি বলতে চাই, তাহলে অনেক সময় চলে যাবে।’

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ধাপে ধাপে স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছি। ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই দেওয়ার কথাও সংসদে জানান তিনি।

 

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মিলন বলেন, উন্নত দেশের মতো জন্মের পর থেকেই জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকলে স্কুল পর্যায়ে আলাদা আইডির দরকার হতো না। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে যেভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, জন্মের পর থেকে নিবন্ধন হয়; এই নিবন্ধন যদি করা হত, তাহলে স্কুল সিস্টেমে এই নতুন আইডিটি চালু করার প্রয়োজন হতো না।’

 

প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

 

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে মিলন বলেন, সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেসের একটি অনুষ্ঠান হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি দেখা যাবে। বিতর্ক, অলিম্পিয়াড, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। আগামী বছর থেকে সারাদেশে ২৪ হাজার বিএনসিসি সদস্য তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

শিশুদের পুষ্টির জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আগামী ফিসক্যাল ইয়ারে আমরা সারা বাংলাদেশে এই কাজটি করতে পারব।’

 

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন সংকটের কথাও সংসদে তোলেন মিলন। তিনি বলেন, ‘মে মাস, জুন মাস দুই মাসে মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেতন পাননি। বিগত সরকার এনটিআরসি থেকে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল মাদ্রাসায়। প্রতি মাসে আমাদের ৫০১ কোটি টাকা লাগে। কিন্তু সেই টাকাটির ব্যবস্থা করা হয়নি বলে আমরা এই মাসে মাদ্রাসায় বেতন দিতে পারিনি।’

 

তবে অর্থমন্ত্রী দ্রুত ১০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই মাসে বাকি টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা এখনো কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার টাকা পাননি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ বুঝতে পেরেছে, ক্ষতিটা ওদেরই হয়েছে: দিলীপ ঘোষ

নৌকা চালিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সেই স্কুলকে জাতীয়করণের নির্দেশ

আপডেট সময় ১০:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

বান্দরবানের দুর্গম থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশ পাঠিয়েছেন, থানচির তিন্দু এলাকার সেই স্কুলটিকে যেন জাতীয়করণ করা হয়। আজকে মহান সংসদে এ স্লিপটি পাঠিয়েছেন।

 

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংসদে আসার পূর্বে ওনার (প্রধানমন্ত্রী) অফিস থেকে একটা টেক্সট পেলাম। সেখানে লেখা রয়েছে- বান্দরবানের দুর্গম থানচির তিন্দু এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে রাখতে এক ব্যতিক্রমী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও অধিকাংশ পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিয়মিত বেতন দিতে পারে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান থানচি–তিন্দু–রেমাক্রী নদীপথে। পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করে তার আয় হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা যার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছেন সহকর্মীদের বেতন হিসেবে। দুর্গম স্কুলটি টিকিয়ে রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা আমার কাছে পাঠিয়েছেন।

 

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এবার সর্বোচ্চ বাজেট তিনি দিয়েছেন। যা জিডিপির ২ শতাংশ। আমরা কিন্তু আগে কখনো পাইনি।

 

বিগত সরকারের সময় শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, তার মধ্যেও ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি। আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সেখান থেকে টাকা দেওয়া হয়েছিল।

 

এবার শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই বরাদ্দের একটি অংশ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যায়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই টাকা থেকে আমরা অবশ্যই কিছু টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা খাতে দিয়ে থাকি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আমরা ১০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা দিয়ে থাকি।

 

এই বরাদ্দ থেকে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ের সংকট সমাধান হওয়া উচিত ছিল মন্তব্য করে মিলন বলেন, আশা করি সেখান থেকে তারা এই টাকা খরচ করত, কিন্তু করেনি। দৃষ্টি পড়েছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। শিক্ষা খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ফ্রি ওয়াইফাই, ইউনিক এডুকেশন আইডি এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা চলছে। বাজেটের বিভিন্ন অংশ যদি বলতে চাই, তাহলে অনেক সময় চলে যাবে।’

 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ধাপে ধাপে স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছি। ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই দেওয়ার কথাও সংসদে জানান তিনি।

 

প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক এডুকেশন আইডি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মিলন বলেন, উন্নত দেশের মতো জন্মের পর থেকেই জাতীয় পরিচয়ভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা থাকলে স্কুল পর্যায়ে আলাদা আইডির দরকার হতো না। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে যেভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, জন্মের পর থেকে নিবন্ধন হয়; এই নিবন্ধন যদি করা হত, তাহলে স্কুল সিস্টেমে এই নতুন আইডিটি চালু করার প্রয়োজন হতো না।’

 

প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

 

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে মিলন বলেন, সোমবার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ ইনোভেশন শোকেসের একটি অনুষ্ঠান হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি দেখা যাবে। বিতর্ক, অলিম্পিয়াড, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। আগামী বছর থেকে সারাদেশে ২৪ হাজার বিএনসিসি সদস্য তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

শিশুদের পুষ্টির জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আগামী ফিসক্যাল ইয়ারে আমরা সারা বাংলাদেশে এই কাজটি করতে পারব।’

 

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন সংকটের কথাও সংসদে তোলেন মিলন। তিনি বলেন, ‘মে মাস, জুন মাস দুই মাসে মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেতন পাননি। বিগত সরকার এনটিআরসি থেকে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল মাদ্রাসায়। প্রতি মাসে আমাদের ৫০১ কোটি টাকা লাগে। কিন্তু সেই টাকাটির ব্যবস্থা করা হয়নি বলে আমরা এই মাসে মাদ্রাসায় বেতন দিতে পারিনি।’

 

তবে অর্থমন্ত্রী দ্রুত ১০০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই মাসে বাকি টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার প্রসঙ্গ তুলে মিলন বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা এখনো কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার টাকা পাননি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।