ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে নরওয়ের রুদ্ধশ্বাস জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত নুসার দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নরওয়ে দুরন্ত ফ্রান্সকে হারানোর কঠিন মিশনে সুইডেন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলে ধন্যবাদ দিলেন আমির হামজা কর্ণফুলীতে ফিশিং ভেসেলে বিস্ফোরণ, ৬ নাবিক দগ্ধ আনচেলত্তি ফ্যাক্টরেই বিশ্বকাপে এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এড়াল ব্রাজিল জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও তোমাদের ভালোবাসি‘ জার্মান সেই গণিতবিদকে এক হাত নিলেন নেইমার যাঁরা বাংলাদেশ চাননি, তাঁদের কেন রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন: বিএনপিকে পরওয়ার

আনচেলত্তি ফ্যাক্টরেই বিশ্বকাপে এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এড়াল ব্রাজিল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায় ঘণ্টা কি তবে বেজেই গিয়েছিল? জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ শেষে অন্তত সেই আশঙ্কাই জেগেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর সেই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে পিছিয়ে না থাকলেও জাপানের একটি দ্রুতগতির আক্রমণে গোল হজম করে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। সেই গোল যেন ব্রাজিলের দুর্বল জায়গাটিও সামনে এনে দেয়। বয়সে অভিজ্ঞ এই ব্রাজিল দল, বিশেষ করে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে, গতির দিক থেকে জাপানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছিল না।

 

ম্যাচের সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, পরিকল্পনামাফিকই খেলছে হাজিমে মরিয়াসুর দল। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় পুরো চিত্র।

 

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে জাপানকে চাপে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (অতিরিক্ত সময় বাদে) এটি ছিল সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল।

 

গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম যখন উল্লাসে কিংবা হতাশায় উত্তাল, তখনও সবচেয়ে শান্ত মানুষটি ছিলেন আনচেলত্তি। তার সেই স্থিরতা ছিল ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি।

 

বিরতির সময় আনচেলত্তির সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইনজুরির কারণে লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠে আরেকজন মিডফিল্ডার নামানোর বদলে আক্রমণভাগে তরুণ এনড্রিককে নামান তিনি। এতে ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ও প্রাণ ফিরে আসে। পাশাপাশি কৌশলেও আসে পরিবর্তন।

 

প্রথমার্ধে মাত্র ১২টি ক্রস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ২৭টি ক্রস তুলে দেয় জাপানের বক্সে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে এর চেয়ে বেশি ক্রস তারা করেছে মাত্র দুইবার। পরিষ্কার ছিল, জাপানের রক্ষণকে আকাশপথে চাপে ফেলাই ছিল আনচেলত্তির পরিকল্পনা।

 

আর সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা যায় সমতাসূচক গোলে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি জাপানের গোলের সময় ভুল করা ক্যাসেমিরোকে মাঠে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। সেই সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়। কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।

 

শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন আনচেলত্তি। উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেন। যোগ করা সময়েই ডান প্রান্ত ও সেন্টার-ব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গায় ঢুকে গোল করে ব্রাজিলকে জয় এনে দেন মার্তিনেল্লি।

 

এই জয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচেই বিদায়ের শঙ্কা থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল। আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩৮ সালের পর নকআউট পর্ব থাকা বিশ্বকাপগুলোতে কেবল ১৯৬৬ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি, সেটিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার কারণে।

 

সে হিসেবে জাপানের কাছে হেরে গেলে এটি হতে পারত অন্তত এক প্রজন্মের মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ব্যর্থতা।

 

জয়টি হয়তো খুব দৃষ্টিনন্দন ছিল না। এখনও অনেকেই এই ব্রাজিল দলকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কম আকর্ষণীয় দল বলবেন। তবে জাপানের বিপক্ষে তাদের লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখিয়েছে, এই দলে আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়তা এসেছে।

 

বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের এটি ছিল শেষ নয় ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে এমন প্রত্যাবর্তনের স্বাদ পেয়েছিল তারা।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারবেন, তা নিয়েই ছিল প্রশ্ন। তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার—এই ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো একক ফুটবলার নন, বরং কোচ কার্লো আনচেলত্তিই। সূত্র: অপ্টা এনালিস্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

হালান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে নরওয়ের রুদ্ধশ্বাস জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত

আনচেলত্তি ফ্যাক্টরেই বিশ্বকাপে এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এড়াল ব্রাজিল

আপডেট সময় ১১:১১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায় ঘণ্টা কি তবে বেজেই গিয়েছিল? জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ শেষে অন্তত সেই আশঙ্কাই জেগেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর সেই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে পিছিয়ে না থাকলেও জাপানের একটি দ্রুতগতির আক্রমণে গোল হজম করে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। সেই গোল যেন ব্রাজিলের দুর্বল জায়গাটিও সামনে এনে দেয়। বয়সে অভিজ্ঞ এই ব্রাজিল দল, বিশেষ করে মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগে, গতির দিক থেকে জাপানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছিল না।

 

ম্যাচের সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, পরিকল্পনামাফিকই খেলছে হাজিমে মরিয়াসুর দল। কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় পুরো চিত্র।

 

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে জাপানকে চাপে রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (অতিরিক্ত সময় বাদে) এটি ছিল সবচেয়ে দেরিতে হওয়া জয়সূচক গোল।

 

গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম যখন উল্লাসে কিংবা হতাশায় উত্তাল, তখনও সবচেয়ে শান্ত মানুষটি ছিলেন আনচেলত্তি। তার সেই স্থিরতা ছিল ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি।

 

বিরতির সময় আনচেলত্তির সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইনজুরির কারণে লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠে আরেকজন মিডফিল্ডার নামানোর বদলে আক্রমণভাগে তরুণ এনড্রিককে নামান তিনি। এতে ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ও প্রাণ ফিরে আসে। পাশাপাশি কৌশলেও আসে পরিবর্তন।

 

প্রথমার্ধে মাত্র ১২টি ক্রস করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ২৭টি ক্রস তুলে দেয় জাপানের বক্সে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে একটি ম্যাচে এর চেয়ে বেশি ক্রস তারা করেছে মাত্র দুইবার। পরিষ্কার ছিল, জাপানের রক্ষণকে আকাশপথে চাপে ফেলাই ছিল আনচেলত্তির পরিকল্পনা।

 

আর সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা যায় সমতাসূচক গোলে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি জাপানের গোলের সময় ভুল করা ক্যাসেমিরোকে মাঠে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। সেই সিদ্ধান্তই সঠিক প্রমাণিত হয়। কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার।

 

শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন আনচেলত্তি। উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেন। যোগ করা সময়েই ডান প্রান্ত ও সেন্টার-ব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গায় ঢুকে গোল করে ব্রাজিলকে জয় এনে দেন মার্তিনেল্লি।

 

এই জয়ে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচেই বিদায়ের শঙ্কা থেকে রক্ষা পেল ব্রাজিল। আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩৮ সালের পর নকআউট পর্ব থাকা বিশ্বকাপগুলোতে কেবল ১৯৬৬ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি, সেটিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার কারণে।

 

সে হিসেবে জাপানের কাছে হেরে গেলে এটি হতে পারত অন্তত এক প্রজন্মের মধ্যে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ব্যর্থতা।

 

জয়টি হয়তো খুব দৃষ্টিনন্দন ছিল না। এখনও অনেকেই এই ব্রাজিল দলকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কম আকর্ষণীয় দল বলবেন। তবে জাপানের বিপক্ষে তাদের লড়াই ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা দেখিয়েছে, এই দলে আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়তা এসেছে।

 

বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের এটি ছিল শেষ নয় ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে এমন প্রত্যাবর্তনের স্বাদ পেয়েছিল তারা।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারবেন, তা নিয়েই ছিল প্রশ্ন। তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের পর অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার—এই ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো কোনো একক ফুটবলার নন, বরং কোচ কার্লো আনচেলত্তিই। সূত্র: অপ্টা এনালিস্ট