ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপিকে দেশের মানুষ বারবার পুরস্কৃত করেছে: নজরুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সই এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেতানিয়াহুর ভুয়া ছবি ছড়ালেন ময়ূখ রঞ্জন একদফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে, শৃঙ্খলা না মানলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: পুলিশদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন: প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আর কত দিন এ ধরনের খেলা চলবে: প্রশ্ন জামায়াত আমিরের একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে: পাকিস্তানি সাংবাদিককে জয়শঙ্কর অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি, থানায় জিডি করলেন অপ্রতিমের বাবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হারাম: পেজেশকিয়ান

কর্ণফুলীতে চোখ বেঁধে প্রেমিকের হাত-পায়ের নখ তুলে নিল প্রেমিকার পরিবার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • ১৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সাইফুল ইসলাম

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানে এক যুবক পুরনো প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে মুঠোফোনে ডেকে এনে চোখ ও হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয়, পরে তুলে নেওয়া হয় হাত ও পায়ের নখ।

মধ্যযুগীয় কায়দায় এ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।’

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটে এ নৃশংস ঘটনা। আহত মো. আলমগীর (২৫) স্থানীয় পুতা বেচার বাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। পেশায় তিনি বাস চালক।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, এক গার্মেন্টসকর্মীর (২৩) সঙ্গে আলমগীরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলের পরিবার সম্পর্ক মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার ছিল বিপরীত। শেষমেশ বিয়ে না হয়ে আলমগীর অন্যত্র বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরেও ওই গার্মেন্টসকর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলেও জানায় পরিবার।

গতকাল শুক্রবার রাতে মেয়েটির ফোন পেয়ে তার ভাড়া বাসায় যান আলমগীর। সেখানেই আটকে রেখে পরদিন দুপুরে মেয়েটির মা, দুই ভাই, দুই বোন এবং দুই বোনের স্বামী মিলে আলমগীরকে হাত-পা ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার আঙুল ও পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আলমগীর।

আলমগীরের ভাই জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই কোনো অপরাধ করলে তারা আইনের হাতে দিত। কিন্তু তারা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমার ভাই এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।”

আহত আলমগীর হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, “আমি বুঝতেই পারিনি তার ফোনটা আমার জন্য ফাঁদ হবে। তার মা, ভাই-বোন সবাই মিলে আমার চোখ-মুখ বেঁধে এমন নির্যাতন করেছে, নখ তুলে নিয়েছে।”

কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিকে দেশের মানুষ বারবার পুরস্কৃত করেছে: নজরুল ইসলাম

কর্ণফুলীতে চোখ বেঁধে প্রেমিকের হাত-পায়ের নখ তুলে নিল প্রেমিকার পরিবার

আপডেট সময় ০১:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সাইফুল ইসলাম

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানে এক যুবক পুরনো প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে মুঠোফোনে ডেকে এনে চোখ ও হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে প্রথমে বেধড়ক মারধর করা হয়, পরে তুলে নেওয়া হয় হাত ও পায়ের নখ।

মধ্যযুগীয় কায়দায় এ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।’

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটে এ নৃশংস ঘটনা। আহত মো. আলমগীর (২৫) স্থানীয় পুতা বেচার বাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। পেশায় তিনি বাস চালক।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, এক গার্মেন্টসকর্মীর (২৩) সঙ্গে আলমগীরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলের পরিবার সম্পর্ক মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার ছিল বিপরীত। শেষমেশ বিয়ে না হয়ে আলমগীর অন্যত্র বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরেও ওই গার্মেন্টসকর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলেও জানায় পরিবার।

গতকাল শুক্রবার রাতে মেয়েটির ফোন পেয়ে তার ভাড়া বাসায় যান আলমগীর। সেখানেই আটকে রেখে পরদিন দুপুরে মেয়েটির মা, দুই ভাই, দুই বোন এবং দুই বোনের স্বামী মিলে আলমগীরকে হাত-পা ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার আঙুল ও পায়ের নখ তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।

বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আলমগীর।

আলমগীরের ভাই জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই কোনো অপরাধ করলে তারা আইনের হাতে দিত। কিন্তু তারা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমার ভাই এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।”

আহত আলমগীর হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, “আমি বুঝতেই পারিনি তার ফোনটা আমার জন্য ফাঁদ হবে। তার মা, ভাই-বোন সবাই মিলে আমার চোখ-মুখ বেঁধে এমন নির্যাতন করেছে, নখ তুলে নিয়েছে।”

কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’