ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

জাবিতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ-সুবিধা, তবু বাড়ছে অপচয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও আবাসিক হলগুলোতে বাড়ছে বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রবণতা। শিক্ষার্থীদের অনেকে রুমে না থাকলেও ফ্যান ও লাইট চালু রেখে চলে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. রাসেল মাহমুদ জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ২৪ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। তবে ক্যাম্পাসের সাবস্টেশনে সর্বোচ্চ ২৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কক্ষে শিক্ষার্থী না থাকলেও ফ্যান ও লাইট চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জানান, বিদ্যুৎ বিল সরাসরি তাদের দিতে হয় না বলে অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। আবার তাড়াহুড়োর কারণে সুইচ বন্ধ না করেও অনেকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী অদিতি মোদক বলেন, রুমে কেউ না থাকলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্যান-লাইট চালু থাকে। এভাবে বিদ্যুৎ অপচয় হলে এর প্রভাব পুরো ক্যাম্পাসের ওপর পড়ে।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রুমে কেউ না থাকা অবস্থায় লাইট-ফ্যান চালু রেখে যাওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয়। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার অর্থ জাতীয় সম্পদের অপচয় করা নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কক্ষে কেউ না থাকলেও ফ্যান-লাইট চালু রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হল প্রভোস্টদের অবহিত করা হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম ভূইয়া জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন পিডিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে হলগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে লোড বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে শুধু নিয়ম বা শাস্তি নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও জাতীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমার এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পুলিশ লাগবে না: ফজলুর রহমান

জাবিতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ-সুবিধা, তবু বাড়ছে অপচয়

আপডেট সময় ০৩:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও আবাসিক হলগুলোতে বাড়ছে বিদ্যুৎ অপচয়ের প্রবণতা। শিক্ষার্থীদের অনেকে রুমে না থাকলেও ফ্যান ও লাইট চালু রেখে চলে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ঢাকা পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. রাসেল মাহমুদ জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ২৪ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। তবে ক্যাম্পাসের সাবস্টেশনে সর্বোচ্চ ২৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কক্ষে শিক্ষার্থী না থাকলেও ফ্যান ও লাইট চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জানান, বিদ্যুৎ বিল সরাসরি তাদের দিতে হয় না বলে অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। আবার তাড়াহুড়োর কারণে সুইচ বন্ধ না করেও অনেকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী অদিতি মোদক বলেন, রুমে কেউ না থাকলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্যান-লাইট চালু থাকে। এভাবে বিদ্যুৎ অপচয় হলে এর প্রভাব পুরো ক্যাম্পাসের ওপর পড়ে।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রুমে কেউ না থাকা অবস্থায় লাইট-ফ্যান চালু রেখে যাওয়া দায়িত্বহীনতার পরিচয়। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার অর্থ জাতীয় সম্পদের অপচয় করা নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে কক্ষে কেউ না থাকলেও ফ্যান-লাইট চালু রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হল প্রভোস্টদের অবহিত করা হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম ভূইয়া জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন পিডিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তবে হলগুলোতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে লোড বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে শুধু নিয়ম বা শাস্তি নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও জাতীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।