ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এমপি আমীর হামজার বিরুদ্ধে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া আবু তৈয়ব ডাকসুতে ভিপি পদে পেয়েছিলেন ১০ ভোট ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই উনি যেটা বলেছেন সেটাই শিরোধার্য: প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে ইসি সচিব প্রতিক্রিয়া সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাদেরসহ দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার করে দেশে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর আ.লীগের ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরও ফেরত চাইবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর তথ্যউপদেষ্টা যে কারণে হঠাৎ রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা আসিফের এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের দিল্লীতে ডেকেছেন শেখ হাসিনা

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া আবু তৈয়ব ডাকসুতে ভিপি পদে পেয়েছিলেন ১০ ভোট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তবে এবার আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তার এ কর্মকাণ্ড ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষেবিপক্ষে নানা আলোচনা। এবার আবু তৈয়ব হাবিলদারকে নিয়ে নতুন আলোচনার বিষয় হলো অতীত ও ডাকসু নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের তথ্য। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি ইতিহাসের অংশ হতে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ ভোট।

জানা গেছে, আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিকসহ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় বলে তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নানা বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে ৪৫ জন শিক্ষার্থী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাত্রদলের প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

ডাকসু নির্বাচন পোর্টাল২০২৫এর ফলাফল অনুযায়ী, আবু তৈয়ব হাবিলদার ভিপি পদে পেয়েছিলেন মোট ১০ ভোট। ফলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ছিল তলানিতে। তবে নির্বাচনের আগে আবু তৈয়ব জানিয়েছিলেন, জয়পরাজয় নয়, ইতিহাসের অংশ হওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে আবু তৈয়ব লিখেছিলেন, তিনি ১/১১এর সময়স্বৈরাচারম ইউ আহমেদকে হঠাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের নির্মমতার শিকার হয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং পড়ালেখা শেষ করতে না পারায় তিনি বিসিএসে অংশ নিতে পারেননি কিংবা কোনো চাকরির সুযোগও পাননি।

ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, বিগত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের নির্যাতননিপীড়ন ও নির্মমতার শিকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনি ও আরও একজন রয়েছেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবনের ইতি টানার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব বলেছিলেন, এখানে জেতাহারার বিষয় নেই। গণতন্ত্রের বিকাশে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ানো তার অধিকার এবং শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এমনকি তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট না চেয়ে বড় ভাই হিসেবে ভালোবাসা চেয়েছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি আমীর হামজার বিরুদ্ধে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া আবু তৈয়ব ডাকসুতে ভিপি পদে পেয়েছিলেন ১০ ভোট

আপডেট সময় ০৪:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়ে আলোচনায় আসেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। তবে এবার আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তার এ কর্মকাণ্ড ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষেবিপক্ষে নানা আলোচনা। এবার আবু তৈয়ব হাবিলদারকে নিয়ে নতুন আলোচনার বিষয় হলো অতীত ও ডাকসু নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের তথ্য। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি ইতিহাসের অংশ হতে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১০ ভোট।

জানা গেছে, আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিকসহ নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় বলে তিনি এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নানা বাধাবিপত্তি ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে ৪৫ জন শিক্ষার্থী ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে সাদিক কায়েম রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছাত্রদলের প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ৫ হাজার ৭০৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

ডাকসু নির্বাচন পোর্টাল২০২৫এর ফলাফল অনুযায়ী, আবু তৈয়ব হাবিলদার ভিপি পদে পেয়েছিলেন মোট ১০ ভোট। ফলে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ছিল তলানিতে। তবে নির্বাচনের আগে আবু তৈয়ব জানিয়েছিলেন, জয়পরাজয় নয়, ইতিহাসের অংশ হওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে আবু তৈয়ব লিখেছিলেন, তিনি ১/১১এর সময়স্বৈরাচারম ইউ আহমেদকে হঠাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। তার দাবি, ২০০৯ সালে ছাত্রলীগের নির্মমতার শিকার হয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং পড়ালেখা শেষ করতে না পারায় তিনি বিসিএসে অংশ নিতে পারেননি কিংবা কোনো চাকরির সুযোগও পাননি।

ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছিলেন, বিগত ১৬ বছরে ছাত্রলীগের নির্যাতননিপীড়ন ও নির্মমতার শিকার অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪২৫ শিক্ষাবর্ষে পুনর্ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনি ও আরও একজন রয়েছেন। এর মাধ্যমে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ক্লাস ও পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবনের ইতি টানার আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে আবু তৈয়ব বলেছিলেন, এখানে জেতাহারার বিষয় নেই। গণতন্ত্রের বিকাশে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ানো তার অধিকার এবং শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এমনকি তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট না চেয়ে বড় ভাই হিসেবে ভালোবাসা চেয়েছিলেন।