ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি, তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়: ডেপুটি স্পিকার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতা দেশটাকে খেয়ে ফেলছে: এটিএম আজহার সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে ছাত্রশিবিরের তীব্র প্রতিবাদ নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নয়, উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বনির্ভর হতে বলল কাতার বিরোধীদলীয় নেতার জন্য হায়াতে তাইয়্যেবার দোয়া করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরলে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা লং মার্চ না করে সংসদে এলে সারাদিন আলোচনা করা যেত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

কথা বলতে পারে না, শুনতেও পায় না। অথচ তার হাতের রংতুলি সাদা ক্যানভাসে কখনো ফুটিয়ে তোলে বিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি, কখনো গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য, আবার কখনো ইতিহাসের কোনো গল্প।
মুখে ভাষা নেই বলেই হয়তো রঙকেই নিজের ভাষা বানিয়েছেন কিশোরী সাবা ইসলাম বর্ণ। আর সেই ভাষা বুঝতে কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না, একবার তার আঁকা ছবিগুলোর দিকে তাকালেই মুগ্ধ হয়ে যান সবাই।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কাঠগড়া গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সাবা। স্থানীয় সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট্ট টিনশেডের ঘরজুড়ে সাজানো তার অসংখ্য চিত্রকর্ম। দেয়ালে ঝুলছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, গ্রামীণ প্রকৃতি ও মানুষের প্রতিকৃতি। আছে ফুটবল তারকা মেসিসহ নানা বিষয়ভিত্তিক ছবিও।

মাত্র নয় মাস বয়সেই পরিবার জানতে পারে সাবা শুনতে পায় না, কথা বলতেও পারে না। তবে ছোটবেলা থেকেই মাটিতে ছবি আঁকার প্রতি তার ছিল আলাদা আগ্রহ। মেয়ের সেই প্রতিভা বুঝতে পেরে চিত্রাঙ্কনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন মা-বাবা। আর সেখান থেকেই শুরু রঙের সঙ্গে সাবার অন্যরকম পথচলা।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কয়েকশ চিত্রকর্ম এঁকেছে সাবা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছে প্রায় ৬০টি ক্রেস্ট, চার শতাধিক বই ও অসংখ্য সনদ। সাধারণ শিশুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও অর্জনের ঝুলিতে কমতি নেই তার।

চিত্রশিল্পী ও আর্ট শিক্ষক তাপস মজুমদার বলেন, সাবার ছবির হাত দেখে আমি মুগ্ধ। সঠিক পরিচর্যা আর সুযোগ পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জায়গা করে নিতে পারবে।

মুখে শব্দ নেই, কানে নেই পৃথিবীর কোলাহল। তবু থেমে নেই সাবার স্বপ্ন। রং আর তুলির আঁচড়ে নিজের মতো করে এগিয়ে চলা এই কিশোরী প্রমাণ করছে প্রতিবন্ধকতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই পারে মানুষকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগে বলত ‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী’, এখন বলছে ‘গুপ্ত’: জাহিদুল ইসলাম

কানে শোনে না, কথাও বলতে পারে না তবুও রঙের ভাষায় স্বপ্ন আঁকে সাবা

আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কথা বলতে পারে না, শুনতেও পায় না। অথচ তার হাতের রংতুলি সাদা ক্যানভাসে কখনো ফুটিয়ে তোলে বিখ্যাত মানুষের প্রতিকৃতি, কখনো গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য, আবার কখনো ইতিহাসের কোনো গল্প।
মুখে ভাষা নেই বলেই হয়তো রঙকেই নিজের ভাষা বানিয়েছেন কিশোরী সাবা ইসলাম বর্ণ। আর সেই ভাষা বুঝতে কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না, একবার তার আঁকা ছবিগুলোর দিকে তাকালেই মুগ্ধ হয়ে যান সবাই।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কাঠগড়া গ্রামের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সাবা। স্থানীয় সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট্ট টিনশেডের ঘরজুড়ে সাজানো তার অসংখ্য চিত্রকর্ম। দেয়ালে ঝুলছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, গ্রামীণ প্রকৃতি ও মানুষের প্রতিকৃতি। আছে ফুটবল তারকা মেসিসহ নানা বিষয়ভিত্তিক ছবিও।

মাত্র নয় মাস বয়সেই পরিবার জানতে পারে সাবা শুনতে পায় না, কথা বলতেও পারে না। তবে ছোটবেলা থেকেই মাটিতে ছবি আঁকার প্রতি তার ছিল আলাদা আগ্রহ। মেয়ের সেই প্রতিভা বুঝতে পেরে চিত্রাঙ্কনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন মা-বাবা। আর সেখান থেকেই শুরু রঙের সঙ্গে সাবার অন্যরকম পথচলা।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই কয়েকশ চিত্রকর্ম এঁকেছে সাবা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেছে প্রায় ৬০টি ক্রেস্ট, চার শতাধিক বই ও অসংখ্য সনদ। সাধারণ শিশুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও অর্জনের ঝুলিতে কমতি নেই তার।

চিত্রশিল্পী ও আর্ট শিক্ষক তাপস মজুমদার বলেন, সাবার ছবির হাত দেখে আমি মুগ্ধ। সঠিক পরিচর্যা আর সুযোগ পেলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জায়গা করে নিতে পারবে।

মুখে শব্দ নেই, কানে নেই পৃথিবীর কোলাহল। তবু থেমে নেই সাবার স্বপ্ন। রং আর তুলির আঁচড়ে নিজের মতো করে এগিয়ে চলা এই কিশোরী প্রমাণ করছে প্রতিবন্ধকতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই পারে মানুষকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে।