মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিমে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করছেন বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। এ ঘটনায় সেই ব্যক্তিকে ঘিরে উত্তেজনা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানান এ সংসদ সদস্য।
ওই ব্যক্তিকে ‘ভুয়া’ ও ‘প্রতারক’ দাবি করে সংসদে এমপি রতন জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ একজনের বাবা হওয়ায় তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় দেখা করেছেন। সে সময়কার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে সেই ‘ভুয়া’ ইমাম মাহাদির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে। এখানে মীরকাদিম পৌরসভায় গত দুইদিন থেকে একটা বিরাট ফেতনা তৈরি হয়েছে।’ তিনি জানান, এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সেই ব্যক্তির বাড়িতে হামলার চেষ্টা করছেন অনেকে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে সংসদকে অবগত করতে গিয়ে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি বলেন, ‘সেখানে একজন নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করেছে। দুইটা কারণে এটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল রাত থেকেই সেখানে আনরেস্ট (অস্থির পরিস্থিতি) তৈরি হয়েছে। এটাকে উপলক্ষ করে আলেম-ওলামারা এবং মহিলারা পর্যন্ত ঘর থেকে বের হয়ে তার বাড়িঘর অ্যাটাক (হামলা) করতে যাচ্ছে।’
ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘আরেকটা হলো সে জুলাই যোদ্ধা শারিকের বাবা। বিভিন্ন সময় অনুদান নিয়ে তার পাশে আমার যেতে হয়েছে, কবরস্থানে দোয়া করতে হয়েছে। এখন সামাজিকভাবে বিভিন্ন ট্র্যাকিংয়ে আসতেছে এই ভুয়া এই ইমাম মাহাদীর সঙ্গে আমার ছবিও আসতেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে চিনি শারিকের বাবা হিসেবে। এরকম একটা ফেতনার সঙ্গে আমাকে যখন জড়ায়ে বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়াতে আসতেছে, সেখানে আপনার মাধ্যমে আমি মুন্সীগঞ্জবাসীকে, পুরো আলেম সমাজ ও মুসলমানদের জানাতে চাই-এই ধরনের ভণ্ড, প্রতারক, ভুয়ার সঙ্গে আমার, জাতীয়তাবাদী দলের বা আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই।’
এই এমপি জানান, শহীদের বাবা হিসেবে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। এর বাইরে নিজেকে ইমাম মাহাদি দাবি করা ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। সংসদে বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করে মুন্সীগঞ্জবাসী ও আলেম সমাজের প্রতি বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















