এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলছে ব্রিকস সম্মেলন। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলন ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সাজানো হয়েছে। তবে সম্মেলনে অংশ নিতে আসা বিদেশি অতিথিরা যেসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করবেন, সেসব এলাকার বস্তি ও অস্থায়ী ঘরবাড়ি কাপড় দিয়ে আড়াল করার ঘটনায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা বস্তি ও দরিদ্র মানুষের বসতিগুলো আড়াল করতে পর্দার মতো কাপড় টাঙানো হয়েছে। এ নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছে দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি)।
এএপির অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের চোখের আড়ালে বস্তি ঢেকে দিলেই দিল্লির বাস্তব চিত্র বদলে যাবে না। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এএপি একটি কার্টুন প্রকাশ করে। সেখানে একটি আয়নার ওপর লেখা ছিল ‘ভিশন ২০৪৭’। আয়নায় উন্নত দিল্লি ও ব্রিকস সম্মেলনের ভেন্যু ভারত মণ্ডপম দেখানো হয়েছে। আর আয়নার বাইরে দেখানো হয়েছে বস্তি, আবর্জনা ও অস্থায়ী ঘরবাড়ি।
কার্টুনটি প্রকাশ করে এএপি বলেছে, পর্দা দিয়ে বস্তি ঢেকে দিলেই বাস্তবতা বদলায় না। দলটি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়েও কটাক্ষ করেছে। বস্তি আড়াল করার সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সংখ্যা বদলে দেখানোর তুলনা টেনেছে তারা। দিল্লিতে বড় কোনো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান বা গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথির সফর হলেই শহরের বস্তি ও অননুমোদিত বসতি আড়াল করার অভিযোগ নতুন নয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা বস্তি ও দরিদ্র এলাকার দৃশ্য আড়াল করতে বিভিন্ন সময়ে পর্দা, সবুজ চাদর বা অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের বক্তব্য, শহরের দারিদ্র্য আড়াল করার বদলে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বস্তি ঢেকে দিয়ে শহরের বাস্তব চিত্র বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এতে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















