গাজীপুরের কালীগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব জাহিদ মুন্সির বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভনে ব্যক্তিগত গোপনীয় ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন জাহিদ মুন্সি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনসেফপুর গ্রামের জাকির মিস্ত্রীর পুত্র জাহিদ মুন্সির দোকানে ঘড়ি কিনতে গিয়ে প্রায় চার মাস পূর্বে পরিচয় হয় সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ওই ছাত্রীর। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একটি গেস্ট হাউজে নিয়ে গিয়ে জাহিদ মুন্সি তাকে ধর্ষণ করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
পরে ওই ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে পূবাইল মিরের বাজারের একটি গেস্ট হাউস, বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি শ্রমিক কলেজের পিছনে রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারসহ অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ওই কলেজছাত্রী জাহিদ মুন্সিকে বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে মারধর করে। গত মঙ্গলবার ওই কলেজছাত্রী তার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে জাহিদ মুন্সির বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন ইতোপূর্বে সে একাধিক বিয়ে করেছে এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে।
এ বিষয়ে ওই কলেজছাত্রীর বড় বোন বলেন, রোববার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিচার চলে। কিন্তু বিচারের পর থেকে জাহিদের পিতা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আমার বোনের কলেজের পরীক্ষা চলমান রয়েছে। সে ৪টি পরীক্ষা দিলেও গতকাল থেকে হুমকির ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।
তবে এ বিষয়ে জাহিদ মুন্সী বলেন, ‘এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলত সে আমার বিবাহিত স্ত্রী ছিল। সে এনসিপিতে যোগদান করতে এসে পরিচয় হয়। তার আগে বিয়ে হয়েছিল। সেখান থেকে ডিভোস নেওয়ার পর আমি তাকে কোর্ট থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করি। এরপর আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু না ছাড়ায় সে আমাকে ডিভোস দেয় সেই কাগজ আমার কাছে আছে। সে আমার স্ত্রী থাকাকালীন সময় বিভিন্ন রিসোটে গিয়েছিল। আমি নিজে আদালতে হাজির হয়ে ব্যবস্থা নিব।’
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















