নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক অভিমত ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না।’
দেশের বাইরে সম্পদ দেখাতে পারলে রাজনীতি ছাড়ার চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের
তিনি লেখেন, ‘এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট। জায়গা মতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না।’
আসিফ লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও।’
তিনি লেখেন, ‘বড় বড় নেতার ছেলেদের সাথে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সিটি কর্পোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করার সহ ভুঁড়ি ভুঁড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক।’
এই এনসিপি নেতা লেখেন, ‘আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন।’
তিনি লেখেন, ‘এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সাথে আপোষ করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল।’
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প ও দরপত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে।
দুদক জানায়, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা থাকাকালে ৩৬ জন ডিসি নিয়োগে ২-১০ কোটি টাকা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা, গাজীপুর সিটির সিইও নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা, এলজিআরডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা, ওয়াসার এমডি নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা ও দুবাইয়ে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















