ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাপানে প্রথমবার শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ, বেশিরভাগই নারী মাদকের গডফাদার সরকারদলীয় হলেও ধরতে যেন হাত না কাঁপে: আইনমন্ত্রী সংকট মোকাবেলায় ইসরায়েলের কাছে সহায়তা চাইল সৌদি আরব পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে শহীদ জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ ইরানে বিমানের চাকা ফেটে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি, খুলে পড়ল কেবিনের ছাদ মন্দিরের মেহেদি পরলেই ১ বছরের মধ্যে বিয়ে নিশ্চিত, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি সৌদিতে হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মির্জা আব্বাস মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা পাকিস্তানের ‘ভাঁওতাবাজি’: বলছে ভারত

মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা পাকিস্তানের ‘ভাঁওতাবাজি’: বলছে ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

জইশমুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা ও ২৬/১১ মুম্বাই হামলার অন্যতম মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকেভাঁওতাবাজিলোক দেখানোপদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে ভারত। আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানকে এমন ঘোষণা না দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। খবর দ্য প্রিন্টের। নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানিদের এমন কৌশল ও লোক দেখানো নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা করা কোনো রাষ্ট্রের এমন ভাঁওতাবাজি ঘোষণার কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পূর্ব ঘোষিত পুরস্কার আরও ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ায়। একই সঙ্গে তাকে সন্ত্রাসীদের সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত তালিকার নতুনরেড বুকেপলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি।আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দেশটিরগ্রে লিস্টেপুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থপাচার ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের গ্রে লিস্টে ছিল। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তবে গত সপ্তাহে কাবুলের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ভারতে একাধিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মাসুদ আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ।

এদিকে পাকিস্তানের এফআইএর সর্বশেষ রেড বুকে সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম রয়েছে। ২০২১ সালের তালিকায় এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তালিকায় থাকা ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। নতুন তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের শনাক্ত করা কয়েকজনের নামও রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। তালিকায় হামলার জন্য অর্থায়ন, পরিকল্পনা কিংবা হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছানোর সামুদ্রিক অভিযানে সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জনের ছবি ও ভূমিকার বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তুরবতের মুহাম্মদ খান ও বাহাওয়ালনগরের আবদুর রহমানের ক্ষেত্রে আগের তালিকায় থাকা ছবি, লস্করতৈয়বার (এলইটি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ এবং কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : দ্য প্রিন্ট

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে প্রথমবার শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ, বেশিরভাগই নারী

মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা পাকিস্তানের ‘ভাঁওতাবাজি’: বলছে ভারত

আপডেট সময় ১১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জইশমুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা ও ২৬/১১ মুম্বাই হামলার অন্যতম মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকেভাঁওতাবাজিলোক দেখানোপদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে ভারত। আজ মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানকে এমন ঘোষণা না দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। খবর দ্য প্রিন্টের। নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানিদের এমন কৌশল ও লোক দেখানো নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা করা কোনো রাষ্ট্রের এমন ভাঁওতাবাজি ঘোষণার কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পূর্ব ঘোষিত পুরস্কার আরও ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ায়। একই সঙ্গে তাকে সন্ত্রাসীদের সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত তালিকার নতুনরেড বুকেপলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি।আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দেশটিরগ্রে লিস্টেপুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থপাচার ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের গ্রে লিস্টে ছিল। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তবে গত সপ্তাহে কাবুলের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ভারতে একাধিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মাসুদ আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ।

এদিকে পাকিস্তানের এফআইএর সর্বশেষ রেড বুকে সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম রয়েছে। ২০২১ সালের তালিকায় এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তালিকায় থাকা ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। নতুন তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের শনাক্ত করা কয়েকজনের নামও রয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। তালিকায় হামলার জন্য অর্থায়ন, পরিকল্পনা কিংবা হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছানোর সামুদ্রিক অভিযানে সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জনের ছবি ও ভূমিকার বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান তুরবতের মুহাম্মদ খান ও বাহাওয়ালনগরের আবদুর রহমানের ক্ষেত্রে আগের তালিকায় থাকা ছবি, লস্করতৈয়বার (এলইটি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ এবং কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : দ্য প্রিন্ট