এবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চ ঘিরে রংপুরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে তৈরি করা হয়েছে সমাবেশের মূল মঞ্চ। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে লংমার্চ শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। আয়োজকদের কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে বিভিন্ন জেলায় পথসভা করার কথা রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ এবং টাঙানো হয়েছে ব্যানার–পোস্টার। জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের জন্য মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষিত নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ–তেল–গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি–চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এ ছাড়া প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবিও রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্যই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম দায়িত্বশীল এটিএম আজম খান জানান, কর্মসূচিকে ঘিরে রংপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আয়োজকরা কাজ করছেন। জনগণের বিভিন্ন দাবি সরকারের সামনে তুলে ধরাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, লংমার্চের পথে কোনো বাধা এলেও কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন আয়োজকরা।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দাবিগুলো সরকার মেনে না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা। সন্ধ্যার সমাপনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সমাবেশে অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















