ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বললেন স্পিকার আমার দুধের সন্তানকে অপরাধী বানাতে চাইলে মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ফ্রিতে সাংবাদিকতা শেখাবে ভারত বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ না দেয়ায় ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন! প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষার অভাবে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে: জাতিসংঘে ড. খলিলুর বিএনপির কার্যালয় পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার, পরদিনই আ.লীগ কর্মীর জামিন জাতিসংঘে তারেক রহমানের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শিশু রাকিবাকে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর মরদেহ উদ্ধার, মা-প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩ নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এনসিপির

বিএনপির কার্যালয় পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার, পরদিনই আ.লীগ কর্মীর জামিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিএনপির উপজেলা কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ কর্মী রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় জামিন দিয়েছেন মহেশপুর চৌকি আদালত। এ ঘটনায় মহেশপুরসহ ঝিনাইদহে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

জামিন পাওয়া রুহুল আমীন মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের হানিফপুর গ্রামের নেসার উদ্দীনের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মহেশপুর থানায় জিআর মামলা নম্বর ৯৪/২৬ দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৪৩৬ ও ৪২৭ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই টিপু সুলতানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমীনকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মহেশপুর চৌকি আদালতে পাঠানো হয়।

 

তবে অভিযোগ উঠেছে, রুহুল আমীন গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।

 

এদিকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় মামলার বাদী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

মামলার বাদী ও যুবদল কর্মী হামিদুল ইসলাম বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত আসামি গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমার জানামতে, মামলায় যেসব ধারা যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো জামিন অযোগ্য। এ ধরনের আসামিরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এলে নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।”

 

তবে মামলার আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং জামিন দেওয়া আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত।

 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। মামলায় যুক্ত ধারাগুলো পুলিশের বিবেচনায় জামিনযোগ্য নয়। তবে আসামিকে জামিন দেওয়া হবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

 

জেলার প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান বলেন, “এ জাতীয় মামলায় তো জামিন হওয়ার কথা নয়। যদি জামিন দিয়ে থাকেন, তবে সেটি আদালতের এখতিয়ার।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান

বিএনপির কার্যালয় পোড়ানো মামলায় গ্রেপ্তার, পরদিনই আ.লীগ কর্মীর জামিন

আপডেট সময় ১০:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিএনপির উপজেলা কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ কর্মী রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় জামিন দিয়েছেন মহেশপুর চৌকি আদালত। এ ঘটনায় মহেশপুরসহ ঝিনাইদহে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

জামিন পাওয়া রুহুল আমীন মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের হানিফপুর গ্রামের নেসার উদ্দীনের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মহেশপুর থানায় জিআর মামলা নম্বর ৯৪/২৬ দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৪৩৬ ও ৪২৭ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই টিপু সুলতানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমীনকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মহেশপুর চৌকি আদালতে পাঠানো হয়।

 

তবে অভিযোগ উঠেছে, রুহুল আমীন গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।

 

এদিকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় মামলার বাদী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

মামলার বাদী ও যুবদল কর্মী হামিদুল ইসলাম বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত আসামি গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমার জানামতে, মামলায় যেসব ধারা যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো জামিন অযোগ্য। এ ধরনের আসামিরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এলে নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।”

 

তবে মামলার আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং জামিন দেওয়া আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত।

 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। মামলায় যুক্ত ধারাগুলো পুলিশের বিবেচনায় জামিনযোগ্য নয়। তবে আসামিকে জামিন দেওয়া হবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

 

জেলার প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান বলেন, “এ জাতীয় মামলায় তো জামিন হওয়ার কথা নয়। যদি জামিন দিয়ে থাকেন, তবে সেটি আদালতের এখতিয়ার।”