ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিভে গেল নেইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রাণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখনই দেশে আসেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী লঞ্চের ভাড়া বাড়ল, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিএনপির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলে মধ্যে ফাটল ধরেছে: জামায়াতে আমির থাইল্যান্ড ভেঙ্গে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী গাজায় ভয়াবহ দুর্ভোগে নীরব থাকবে না ব্রিটেন: অ্যান্ডি বার্নহাম গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডার

গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধকে বিশ্বের জন্যলজ্জাজনকবলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে ঘোষিতযুদ্ধবিরতিসত্ত্বেও গাজা সিটিতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেতথাকথিত যুদ্ধবিরতিকার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। ইউএনজিএতে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রায় এক ডজন দেশের মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজার ঘটনায় আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?তিনি বলেন, কেউ কেউ কথিত শান্তির বড়াই করছেন। কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেয়নি। আমাদের কি এমন দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে, যা আমাদের সবাইকে লজ্জিত করে? কখনোই নয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের প্রতিদিনেরলঙ্ঘননিয়েও সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশী সব দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ওপর ইসরাইলের নিরাপত্তা নির্ভর করে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তা দুর্বল হবে এবং তা হুমকির মুখে পড়বে।ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউএনজিএতে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বার্নহ্যাম বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু কথার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

বার্নহ্যাম জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্যও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। তিনি ইসরাইলেরবসতি প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাধাগ্রস্ত করারইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টাবলে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি। কার্নি জানান, সহায়তার ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশশান্তি ও নিরাপত্তানিশ্চিতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার বহুবর্ষী উদ্যোগও রয়েছে।

গাজায় ফিলিস্তিনিরা অপরিসীম মানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ইসরাইলিরাও হামাস, ইরান ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকেঅস্তিত্বের হুমকিমোকাবিলা করছে।তিনি ইসরাইলের ই১ বসতি প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান। এ ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ঘোষণাকারী ১২টি দেশের মধ্যে কানাডাও রয়েছে। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি বা প্রায় ৪২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অটোয়া। সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান

গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে সমর্থন ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডার

আপডেট সময় ০১:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরাইলের বিধিনিষেধকে বিশ্বের জন্যলজ্জাজনকবলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অক্টোবরে ঘোষিতযুদ্ধবিরতিসত্ত্বেও গাজা সিটিতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেতথাকথিত যুদ্ধবিরতিকার্যকর হওয়ার পর নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন। ইউএনজিএতে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রায় এক ডজন দেশের মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজার ঘটনায় আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি, তাহলে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?তিনি বলেন, কেউ কেউ কথিত শান্তির বড়াই করছেন। কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেয়নি। আমাদের কি এমন দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হবে, যা আমাদের সবাইকে লজ্জিত করে? কখনোই নয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের প্রতিদিনেরলঙ্ঘননিয়েও সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশী সব দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ওপর ইসরাইলের নিরাপত্তা নির্ভর করে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এতে বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসরাইলের নিরাপত্তা দুর্বল হবে এবং তা হুমকির মুখে পড়বে।ম্যাক্রোঁর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউএনজিএতে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বার্নহ্যাম বলেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনীতিবিদদের ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের কথা বলে আসছেন। কিন্তু কথার সঙ্গে বাস্তব পদক্ষেপ না থাকলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

বার্নহ্যাম জানান, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে বাণিজ্যও নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। তিনি ইসরাইলেরবসতি প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাধাগ্রস্ত করারইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টাবলে উল্লেখ করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি। কার্নি জানান, সহায়তার ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশশান্তি ও নিরাপত্তানিশ্চিতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার বহুবর্ষী উদ্যোগও রয়েছে।

গাজায় ফিলিস্তিনিরা অপরিসীম মানবিক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ইসরাইলিরাও হামাস, ইরান ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকেঅস্তিত্বের হুমকিমোকাবিলা করছে।তিনি ইসরাইলের ই১ বসতি প্রকল্পেরও সমালোচনা করেন এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানান। এ ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ ঘোষণাকারী ১২টি দেশের মধ্যে কানাডাও রয়েছে। ইসরাইলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি বা প্রায় ৪২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অটোয়া। সূত্র: আলজাজিরা