ঢাকা , বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ ১৭ বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে: সাদিক কায়েম ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ’ ইসরায়েলের বর্বরতা: ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক গুলশান লেকই যদি ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য টিপসই নিয়ে বিধবার ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ সালমান মুক্তাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদে মিলতে পারে অনেক প্রশ্নের উত্তর ঢাবি ক্যাম্পাসে চলন্ত শাটলে ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনতাই

‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল—আলহামদুলিল্লাহ।’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার বাংলা বাজার এলাকায়। সেখানে নির্বাচনি বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাগরের লোকজন অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে মারধর করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মতিউর রহমান সাগরের দাবি, আব্দুস সালাম তার নির্বাচনি ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে ফেলেছেন। এ কারণে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর দাবি জানান তিনি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে মতিউর রহমান সাগর ক্ষুব্ধ হন এবং ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এমপির কাছে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সমুদ্রে দুই নিয়ম, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জেলেদের যত ক্ষোভ

‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল-আলহামদুলিল্লাহ’

আপডেট সময় ০৪:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

এবার একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মতিউর রহমান সাগর লেখেন, ‘যে দলের জন্য জীবন-যৌবন শেষ করলাম, সেই দল আমাকে বহিষ্কার করল—আলহামদুলিল্লাহ।’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ করে ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে নড়িয়া উপজেলার বাংলা বাজার এলাকায়। সেখানে নির্বাচনি বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সাগরের লোকজন অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে মারধর করেন এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মতিউর রহমান সাগরের দাবি, আব্দুস সালাম তার নির্বাচনি ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে ফেলেছেন। এ কারণে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর দাবি জানান তিনি। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে মতিউর রহমান সাগর ক্ষুব্ধ হন এবং ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে একাধিকবার দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় এবং বারবার দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মতিউর রহমান সাগরকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এমপির কাছে অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।