ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণঅভ্যুত্থানের নায়ক থেকে আওয়ামী লীগের কোণঠাসা প্রবীণ নেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৪৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি হিসেবে তিনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন তিনি। নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে এসে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন এই প্রবীণ নেতা। দলীয় সূত্র ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব এবং বিভিন্ন সময়ের মতপার্থক্যের কারণে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তিনি অনেকটাই দূরে সরে যান।

বিশেষ করে ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী নেতাদের অন্যতম হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। ওই সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাইরে দলীয় সংস্কারের প্রস্তাব তোলার ঘটনায় পরবর্তীতে দলীয় রাজনীতিতে আরও বেকায়দায় পড়েন তিনি বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করে।

রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শেষ সময় পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একটি অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল এবং শেষ কয়েক বছর হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের নাম তোফায়েল আহমেদ। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গণঅভ্যুত্থানের নায়ক থেকে আওয়ামী লীগের কোণঠাসা প্রবীণ নেতা

আপডেট সময় ০৬:৪৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি হিসেবে তিনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন তিনি। নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে এসে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন এই প্রবীণ নেতা। দলীয় সূত্র ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মতে, শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব এবং বিভিন্ন সময়ের মতপার্থক্যের কারণে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তিনি অনেকটাই দূরে সরে যান।

বিশেষ করে ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী নেতাদের অন্যতম হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসে। ওই সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বাইরে দলীয় সংস্কারের প্রস্তাব তোলার ঘটনায় পরবর্তীতে দলীয় রাজনীতিতে আরও বেকায়দায় পড়েন তিনি বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করে।

রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতন ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শেষ সময় পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একটি অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল এবং শেষ কয়েক বছর হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের নাম তোফায়েল আহমেদ। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।